নিউজ পোল ব্যুরো: বছরের একেবারে শুরুতেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের দুনিয়ায় এল এক যুগান্তকারী সুখবর। এতদিন থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) রোগীদের কাছে জীবন মানেই ছিল নির্দিষ্ট সময় অন্তর রক্ত নেওয়ার যন্ত্রণা, হাসপাতালের দীর্ঘ অপেক্ষা এবং তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা শারীরিক জটিলতা। সেই দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান ঘটাতে পারে একটি ছোট্ট ট্যাবলেট। আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) সম্প্রতি ‘মিটাপিভাট’ (Mitapivat) নামের একটি ওষুধের অনুমোদন দিয়েছে। এটি থ্যালাসেমিয়াজনিত (Thalassemia) রক্তাল্পতা কমানোর ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম মুখে খাওয়ার ওষুধ হিসেবে চিকিৎসা ইতিহাসে জায়গা করে নিল।
থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) একটি বংশগত রক্তরোগ, যেখানে শরীর পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না। এর ফলে লোহিত রক্তকণিকা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক দ্রুত ভেঙে যায় এবং রোগী ক্রমাগত অ্যানিমিয়ায় ভোগেন। এই অবস্থায় এতদিন একমাত্র ভরসা ছিল বারবার রক্ত নেওয়া। মিটাপিভাট সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে কাজ করে। এটি একটি এনজাইম অ্যাক্টিভেটর, যা লোহিত রক্তকণিকার শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। ফলে রক্তকণিকাগুলি আরও বেশি সময় রক্তে টিকে থাকে, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ে এবং রোগীর ক্লান্তি ও দুর্বলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এই নতুন ওষুধের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এটি আলফা এবং বিটা—দু’ধরনের থ্যালাসেমিয়াতেই (Thalassemia) কার্যকর হতে পারে। যাদের নিয়মিত রক্ত নিতে হয় এবং যাদের নিতে হয় না, উভয় ধরনের রোগীর ক্ষেত্রেই এটি প্রয়োগযোগ্য। বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল বলছে, মিটাপিভাট ব্যবহারের পর বহু রোগীর রক্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমেছে, এমনকি কারও ক্ষেত্রে পুরোপুরি বন্ধও হয়েছে। এর ফলে শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমে লিভার, হার্ট বা অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতির যে আশঙ্কা থাকে, তা থেকেও রোগীরা রেহাই পাবেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
ভারতের মতো দেশে এই ওষুধের গুরুত্ব আরও বেশি। এখানে থ্যালাসেমিয়া (Thalassemia) আক্রান্তের সংখ্যা বিপুল এবং রক্তের জোগান সবসময় পর্যাপ্ত নয়। বিশিষ্ট হেমাটোলজিস্টদের মতে, মিটাপিভাট (Mitapivat) চালু হলে রোগীদের জীবনযাত্রার মান আমূল বদলে যাবে। তবে সতর্কতার দিকও রয়েছে। ওষুধটি লিভারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই শুরুতে নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট জরুরি। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আমেরিকায় এটি বাজারে মিলছে। ভারতে ব্যবহার শুরু করতে হলে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (DCGI)-এর অনুমোদন প্রয়োজন। সরকারি উদ্যোগে দ্রুত ছাড়পত্র মিললে, দেশের লক্ষ লক্ষ থল্যাসেমিয়া রোগীর জীবনে সত্যিই নতুন ভোর আসতে পারে।
