নিউজ পোল ব্যুরো: ছোট শব্দ ‘সাইকো’ (Psycho)। শুনতে হালকা, কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর অন্ধকার। শব্দটির উৎস সাইকোসিস, যা এক জটিল মানসিক রোগ (Mental health) এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় গভীর অবসাদে ডুবে যান, কখনও বা মনের মধ্যে জন্ম নেয় আত্মহননের চিন্তা। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, মনের এই রোগের ছাপ আগে পড়ে শরীরে বিশেষ করে ত্বকে। ইউরোপিয়ান কলেজ অফ নিউরোসাইকোফার্মাকোলজির সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, মানসিক রোগ মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলবার আগেই তার সংকেত পৌঁছে যায় ত্বকের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।
আরও পড়ুন:New Tollywood movie: মোহনপুরের মাটিতে ‘শেকড়’-এর শুটিং, ব্রাত্যের সেটে তারকার ভিড়
গবেষণায় ৪৮১ জন রোগীর উপর পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, যাঁরা বাইপোলার ডিজ়অর্ডার, স্কিৎজ়োফ্রেনিয়া বা গভীর অবসাদে ভুগছেন, তাঁদের এক বড় অংশের ত্বকে রয়েছে র্যাশ, সোরিয়াসিস বা সংক্রমণজনিত সমস্যা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ২৪ শতাংশ মহিলা ও ৯.৮ শতাংশ পুরুষের ক্ষেত্রে মানসিক রোগ-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কোনও না কোনও চর্মরোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্ক ও ত্বক দুই-ই তৈরি হয়েছে এক্টোডার্ম নামক স্তর থেকে। তাই মনের চাপ বা অবসাদ বাড়লে কর্টিসল হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার ফলে ত্বকে প্রদাহ, কোষ বিন্যাসে পরিবর্তন ও কোলাজেন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে। এই অবস্থাই ধীরে ধীরে রূপ নেয় জটিল মানসিক রোগ (Mental health)-এর প্রাথমিক সংকেতে।
গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, আত্মহননের চিন্তা যাঁদের মধ্যে প্রবল, তাঁদের ত্বকে নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন, লিপিড ও জৈব রাসায়নিকের পরিবর্তন দেখা যায়। ভবিষ্যতে এই উপাদানগুলি যদি আগে থেকে শনাক্ত করা যায়, তা হলে অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে। তবে আপাতত সেই প্রযুক্তি জটিল (Mental health) এবং গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শরীর ও মনের সম্পর্ক এত গভীর যে, কোনও একটি অংশের বিপর্যয় অন্যটিরও ভারসাম্য নষ্ট করে। তাই মানসিক রোগ (Mental health) শুধু মস্তিষ্কের সমস্যা নয়, এটি এক জৈবিক বাস্তবতা, যার ছাপ পড়ে চামড়ার প্রতিটি স্তরে। এই গবেষণা ভবিষ্যতে চিকিৎসা-বিজ্ঞানে এক নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে—যেখানে ত্বক হয়ে উঠবে মনের আয়না, আর মানসিক রোগ ধরা পড়বে শরীরের কোষে কোষে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
