নিউজ পোল ব্যুরো: একসময় ক্যানসার মানেই ছিল অবধারিত মৃত্যু। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জয়যাত্রায় সেই ধারণা এখন অতীত। বিশেষ করে ব্রেন টিউমার বা মস্তিষ্কের ক্যানসার শনাক্তকরণে বিজ্ঞানীরা এখন এমন এক মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে, যা কয়েক বছর আগেও ছিল অকল্পনীয়। ব্রিটিশ ও ড্যানিশ বিজ্ঞানীদের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে মাত্র এক ফোঁটা রক্তে মস্তিষ্কের টিউমার শনাক্ত করার প্রযুক্তি।
সাধারণত মস্তিষ্কের টিউমার ধরা পড়ে অনেক দেরিতে -যখন রোগীর তীব্র মাথাব্যথা বা জ্ঞান হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দেয়। বর্তমানে এমআরআই স্ক্যান বা সরাসরি মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ‘বায়োপসি’ করে এটি নিশ্চিত করতে হয়, যা রোগীর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও যন্ত্রণাদায়ক। কিন্তু নতুন এই পদ্ধতিতে রক্তে উপস্থিত বিশেষ দুটি প্রোটিন বিশ্লেষণ করে ৯০ শতাংশ নির্ভুলতার সাথে টিউমার শনাক্ত করা সম্ভব। একে বলা হচ্ছে ‘লিকুইড বায়োপসি’।
মস্তিষ্কের টিস্যু স্পর্শ না করেই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে ভেতরে কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না। এর সুবিধা- অসুবিধেগুলি হলো:
ঝুঁকিমুক্ত পদ্ধতি: কোনো জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই।
দ্রুত রোগ নির্ণয়: সাধারণ স্ক্যানে ধরা পড়ার অনেক আগেই এই পরীক্ষায় ক্যানসারের উপস্থিতি বোঝা যায়।
চিকিৎসার তদারকি: থেরাপি চলাকালীন
টিউমার ছোট হচ্ছে কি না, তা বারবার রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই যাচাই করা সম্ভব।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তিকে সাধারণ করোনা টেস্ট কিটের মতো ছোট ডিভাইসে রূপান্তর করার চেষ্টা করছেন। এর ফলে বড় হাসপাতালের শরণাপন্ন না হয়েও প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীরা এই সেবা পাবেন। শুধু মস্তিষ্কের ক্যানসারই নয়, বরং ফুসফুস, স্তন ও অন্ত্রের ক্যানসার শনাক্তেও একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহারের গবেষণা চলছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
যদি প্রাথমিক পর্যায়েই ক্যানসার ধরা পড়ে, তবে টিউমার ছোট থাকতেই তা অপসারণ করা সহজ হবে। এই উদ্ভাবন ক্যানসার চিকিৎসায় এক নতুন মাইলফলক হতে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে লক্ষ লক্ষ প্রাণ বাঁচানোর আশা জাগিয়েছে।
