নিউজ পোল ব্যুরো: সোশাল মিডিয়ার (Social Media) ঝলমলে হাসি, রিলস আর মঞ্চের আলো—সবকিছুর আড়ালেই যে কতটা গভীর অন্ধকার লুকিয়ে থাকতে পারে, তারই এক মর্মান্তিক উদাহরণ সামনে আনলেন সঙ্গীতশিল্পী ও ইনফ্লুয়েন্সার দেবলীনা নন্দী (Debolinaa Nandy)। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, দাম্পত্য কলহ ও মানসিক যন্ত্রণার চাপে পড়ে চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটতে চেয়েছিলেন তিনি। যদিও শেষ মুহূর্তে বন্ধু-অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী এবং এক আপ্তসহায়কের তৎপরতায় প্রাণে বেঁচে যান দেবলীনা।
জানা গিয়েছে, স্বামী প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ এবং একাকিত্ব থেকেই মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন দেবলীনা (Debolinaa Nandy)। সেই অবস্থায় দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং শারীরিকভাবে বিপন্মুক্ত বলেই জানা যাচ্ছে। তবে হাসপাতালের বেডে শুয়েও তার মানসিক আর্তি যেন আরও বেশি নাড়া দিয়েছে নেটদুনিয়াকে (Mental Health Crisis)। দেবলীনাকে (Debolinaa Nandy) বলতে শোনা যায়, “আমি অর্ধেক কিছু করতে চাইনি। কেন আমায় বাঁচানো হল, আজও বুঝতে পারছি না।” এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় পড়ে যায় সোশাল মিডিয়ায় (Social Media)। সোমবার সন্ধ্যায় দেবলীনাকে (Debolinaa Nandy) দেখতে হাসপাতালে যান সায়ক চক্রবর্তী। দেবলীনাকেই পাশে রেখে ফেসবুক লাইভে গোটা ঘটনার কথা তুলে ধরেন তিনি। সেই লাইভে দেবলীনা (Debolinaa Nandy) জানান, একাধিকবার ভেবেছিলেন পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও মনে হয়েছিল, কিন্তু বিশ্বাস ছিল—কোনও উত্তর আসবে না। ধীরে ধীরে চোখ বুজে আসছিল, তবুও মনে মনে ঈশ্বরকে ডেকেছিলেন, যেন সব ঠিক হয়ে যায়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
লাইভে দেবলীনাকে (Debolinaa Nandy) বলতে শোনা যায়, বিয়ের আগে তার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তিনি নিজে, তার গান আর মা। কিন্তু বিয়ের পর সবকিছু বদলে যায়। স্বামীকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতে গিয়ে নিজের অস্তিত্ব, স্বপ্ন আর মানসিক শান্তি যেন ক্রমশ হারিয়ে যেতে থাকে। সেই দ্বন্দ্বই তাকে ঠেলে দেয় অন্ধকারের কিনারায়। সঙ্গীত জগতের পরিচিত মুখ দেবলীনা নন্দী (Debolinaa Nandy) নিয়মিত স্টেজ শো করেন, সোশাল মিডিয়ায় (Social Media) তার অনুরাগীর সংখ্যাও কম নয়। গত শনিবার রাতেই হঠাৎ ফেসবুক লাইভে (Facebook Live) এসে ব্যক্তিগত জীবনের ভাঙনের কথা প্রকাশ্যে আনেন তিনি। এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক অবসাদ কীভাবে একজন শিল্পীকেও মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারে।
