Suresh Kalmadi: কমনওয়েলথ গেমস বিতর্ককে সঙ্গে নিয়েই না ফেরার দেশে সুরেশ কালমাদি

ক্রীড়া

নিউজ পোল ব্যুরো: দেশের ক্রীড়াজগতে শোকের ছায়া। মঙ্গলবার ভোরে পুণের একটি হাসপাতালে প্রয়াত হয়েছেন ভারতীয় ক্রীড়া প্রশাসনের অভিজ্ঞ এবং ভারতীয় অলিম্পিক্স অ্যাসোসিয়েশনের (IOA) দীর্ঘদিনের সভাপতি সুরেশ কালমাদি (Suresh Kalmadi’s Death)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, কালমাদি বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং এদিন ভোর সাড়ে ৩টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি দীর্ঘদিন কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন, পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রের ক্যাবিনেট মন্ত্রীও ছিলেন। যদিও দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমস বিতর্ক তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত পিছু ছাড়েনি।

মৃত্যুকালে তিনি রেখে গিয়েছেন স্ত্রী, এক ছেলে ও পুত্রবধূ, দুই বিবাহিত কন্যা এবং নাতি-নাতনিদের। কালমাদি ভারতীয় ক্রীড়া প্রশাসনের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং ইন্ডিয়ান অলিম্পিক্স অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্ব দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সামলেছেন, যে কৃতিত্ব আর কোনও ক্রীড়া প্রশাসকের নেই। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আইওএ সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মেয়াদকালে, দেশের ক্রীড়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের উপস্থিতি আরও জোরদার করে। তাঁর আমলেই ২০১০ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় কমনওয়েলথ গেমস। যদিও সেই গেমস নিয়ে ওঠা বিতর্ক তাঁর শেষদিন পর্যন্ত পিছু ছাড়েনি।

আরও পড়ুন:Manoj Kothari: প্রয়াত মনোজ কোঠারি

১৯৪৪ সালে জন্মগ্রহণকারী সুরেশ কালমাদি ভারতীয় বিমান বাহিনীতে একজন ফাইটার পাইলট হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৫ এবং ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এরপর তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং কংগ্রেস দলের এমপি হিসাবে বেশ কয়েকবার লোকসভায় পুণে সাংসদীয় কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আইওএ ছাড়াও, কালমাদি এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন (আইএএএফ) কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যা তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী ক্রীড়া প্রশাসকদের একজন করে তুলেছিল।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

আইওএ সভাপতি হিসেবে কালমাদির আমলে ২০০৮ সালের বেজিং অলিম্পিক্সে ভারত একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করে। বেজিংয়ে শুটার অভিনব বিন্দ্রা দেশের হয়ে প্রথম ব্যক্তিগত অলিম্পিক সোনা জিতেছিলেন। তিনি ২০১০ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন, যা তাকে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি এনে দেয়।