নিউজ পোল ব্যুরো: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির (Enforcement Department) তল্লাশির মধ্যেই আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি (Pratik Jain’s House) ও সল্টলেকের দফতরে (Enforcement Department) পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়ি এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভে আই-প্যাকের অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছিল ইডি। সেই খবর ছড়াতেই প্রথমে প্রতীকের বাড়িতে যান কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা, তার ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত হন মন্ত্রী সুজিত বসুও।
আরও পড়ুন: ISL Update: লাল হলুদে কমতে পারে কেভিন, রাশিদদের বেতন
প্রতীকের বাড়িতে কিছুক্ষণ থাকার পর একটি সবুজ ফাইল হাতে বেরোতে দেখা যায় মমতাকে। এরপর তিনি পৌঁছন সল্টলেকে আই-প্যাকের দফতরে। সেখানে পৌঁছনোর আগেই উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রী। দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিট নাগাদ ভবনের বেসমেন্ট দিয়ে সাধারণ লিফ্ট ব্যবহার করে ১১ তলায় ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। বেলা ১টা পর্যন্ত তিনি দফতরেই ছিলেন। এই সময় গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ, মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত বাহিনী। আই-প্যাকের অফিস থেকেও একাধিক ফাইল বের করে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ির পিছনের আসনে তোলা হয় বলে সূত্রের খবর।
আইপ্যাক-এর দফতরে তল্লাশি চালানোর সময়ে বহুতলটির প্রবেশ এবং বাইরে বেরোনোর ফটক সিল করে দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। মমতা যখন সেখানে পৌঁছোন দেখা যায় দু’টি দরজাই বন্ধ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কথা না বাড়িয়ে বেসমেন্ট দিয়ে লিফ্টের দিকে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে যান ১১ তলায় আইপ্যাক-এর দফতরে। তার পরেই সেখানে বাহিনী বাড়াতে শুরু করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারটেও। মমতা যাওয়ার পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা আরও বাড়ে। সেই সঙ্গে বাহিনী বাড়াতে থাকে বিধাননগর পুলিশও। ওই বহুতলের যে সমস্ত অফিস রয়েছে, তাদের কর্মীদের ঢোকানো হচ্ছে রীতিমতো চেকিং করে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়লা পাচার সংক্রান্ত দিল্লির একটি পুরনো মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি। আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখার সময় প্রতীক জৈনের নাম উঠে আসে বলে দাবি।
অন্যদিকে, এই অভিযানকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তৃণমূলের গোপন নথি ও প্রার্থী তালিকা হাতিয়ে নিতেই এই অভিযান করানো হয়েছে।
ঘটনাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Shuvendu Adhikari) অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দিয়েছেন, যা অসাংবিধানিক। পালটা তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তদন্তকে ব্যবহার করছে। ইডি অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। শুভেন্দু এই বিষয়ে বলেছেন, ”আমার বাড়িতেও সিআইডি পাঠানো হয়েছিল। আমার বৃদ্ধ মা-বাবাকে হেনস্থা করা হয়েছে। আসামী খোঁজার নামে নন্দীগ্রাম পার্টি অফিসে তল্লাশি চালিয়ে সব কিছু তছনছ করা হয়েছে ওনার নির্দেশে। প্রতিহিংসা ওনার মুখে মানায় না।”
