নিউজ পোল ব্যুরো: রাজ্যের যুবক-যুবতীদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) চালু করেছেন যুবসাথী (Yuva Sathi Scheme) প্রকল্প। রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগে ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মনে এখনও একটি বড় প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে—যারা বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত বা চুক্তিভিত্তিক কাজে যুক্ত, তারা কি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন? সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যুবসাথী প্রকল্পের (Yuva Sathi Scheme) মূল লক্ষ্য সম্পূর্ণ বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। বয়সসীমা নির্ধারিত হয়েছে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে মাধ্যমিক পাশ বাধ্যতামূলক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত—আবেদনকারীকে অবশ্যই বেকার হতে হবে।
এই ‘বেকার’ শব্দটিই এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। কারণ বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও নানা স্তর রয়েছে। স্বীকৃত বা সংগঠিত বেসরকারি সংস্থায় কর্মরতরা প্রভিডেন্ট ফান্ড (Provident Fund), ইএসআই (ESI) সহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পান। এদের ক্ষেত্রে তারা কর্মরত হিসেবেই বিবেচিত হবেন, ফলে যুবসাথীর সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নেই। অন্যদিকে, অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করা বহু যুবক-যুবতী রয়েছেন, যারা দিনমজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন এবং অধিকাংশ সময় নগদে পারিশ্রমিক পান। তাদের কোনও স্থায়ী নিয়োগপত্র বা সামাজিক সুরক্ষা নেই। এই শ্রেণির ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি। তবে সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুধুমাত্র সম্পূর্ণ বেকাররাই এই প্রকল্পের (Yuva Sathi Scheme) আওতায় আসবেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
আবেদনের প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। প্রথমে যেতে হবে সরকারি পোর্টাল https://apas.wb.gov.in-এ। সেখানে ‘Click to Apply’ অপশনে ক্লিক করে মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে আবেদন ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে। সব তথ্য যাচাই করে অনলাইনে সাবমিট করলেই আবেদন সম্পূর্ণ হবে। শেষে আবেদনপত্রটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করে রাখা আবশ্যিক। এছাড়াও, নিজের বিধানসভা এলাকায় আয়োজিত বিশেষ ক্যাম্পে গিয়েও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ফলে যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।
