নিউজ পোল ব্যুরো:আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলার রাজনীতিতে এখন ‘ভাণ্ডার’ কেন্দ্রিক প্রতিশ্রুতির লড়াই তুঙ্গে। এই আবহেই নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Mohammed Salim statement on Lakshmir Bhandar)। রবিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি শাসক দলের জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “কাটমানি বন্ধ করতে পারলেই মহিলাদের দ্বিগুণ টাকা দেওয়া সম্ভব।”
সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহম্মদ সেলিম (Mohammed Salim statement on Lakshmir Bhandar) দাবি করেন, বর্তমান ভাতা প্রকল্প আসলে রাজ্যের কোষাগার থেকে লুঠ হওয়া টাকার একটি ক্ষুদ্র অংশমাত্র, যা সাধারণ মানুষের মন জয়ের রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। তাঁর কথায়, ৫০০ বা ১০০০ টাকা দিয়ে ক্রমবর্ধমান বাজারদরের মধ্যে সংসার চালানো সম্ভব নয়, তাই এটিকে ‘ভাণ্ডার’ বলা চলে না।
এদিন বৃন্দা কারাত-এর বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে সেলিম আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিভিন্ন ‘শ্রী’ প্রকল্প আসলে কেরলের ‘কুটুম্বশ্রী’ মডেলের অনুসরণ। তাঁর দাবি, কেরল বহু বছর আগেই এই ধরনের সামাজিক প্রকল্প চালু করেছে, বাংলায় তা নতুন কিছু নয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
তবে শুধু সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি সিপিআই(এম) নেতা। তিনি জানান, বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে এই ভাতার অঙ্ক বাড়ানো হবে এবং তা ‘দান’ হিসেবে নয়, মহিলাদের সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে দেওয়া হবে। তাঁর মতে, দুর্নীতি ও কাটমানি বন্ধ করা গেলে রাজ্যের কোষাগারে পর্যাপ্ত অর্থ আসবে, এবং তখন তামিলনাড়ু বা কেরলের মতোই বেশি ভাতা দেওয়া সম্ভব।
বিজেপি ও তৃণমূলকে একই মুদ্রার দুই পিঠ বলেও কটাক্ষ করেন সেলিম। তাঁর অভিযোগ, উভয় দলই ‘ভয়ের রাজনীতি’ করে সাধারণ মানুষকে বিপন্ন করে, তারপর নিজেদেরই রক্ষাকর্তা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে।
রাজনৈতিক লড়াইয়ে নতুন কৌশলের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, আগামী ১ মার্চ থেকেই বামেদের সংগঠিত প্রচার শুরু হবে। এবারের নির্বাচনে মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানো, জেলা ও বিধানসভা ভিত্তিক পৃথক ইস্তাহার প্রকাশ এবং ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের মতো সামাজিক প্রকল্পকে গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর জনপ্রিয়তাকে অস্বীকার না করে বরং তার চেয়ে বেশি সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে সরাসরি প্রভাব ফেলতেই এই কৌশল নিয়েছেন মহম্মদ সেলিম।
