Jadavpur University: ইঞ্জিনিয়ারিং কাউন্সেলিংয়ে ‘স্বাধীনতা’ চাই! সরকারকে চিঠি দিতে প্রস্তুত বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষা

নিউজ পোল ব্যুরো: ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া এ বার নিজেদের হাতেই নিতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)। এই মর্মে খুব শিগগিরই রাজ্যের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি এবং টেকনিক্যাল এডুকেশন দফতরের সচিবকে চিঠি পাঠাতে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতির একটি অনলাইন বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যেখানে অধিকাংশ সদস্যই প্রস্তাবের পক্ষে মত দেন বলে সূত্রের খবর। তবে এই সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছেন রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা সরকারের মনোনীত সদস্য গৌতম পাল। তিনি এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ জমা দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:Akshay Kumar: রান্নার গ্যাস নিয়ে কোনও দুশ্চিন্তা নেই! আগাম ভাবনায় সব সামলে রেখেছেন টুইঙ্কল খান্না

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির কাউন্সেলিং নিজেদের উদ্যোগেই করতে চায় (Jadavpur University)। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “এটি ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত। বিষয়টি এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে আলোচনা হয়েছে এবং অধিকাংশ সদস্যই এতে সম্মতি দিয়েছেন। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের উপরেই নির্ভর করছে।”
অন্যদিকে, এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা সরকারের মনোনীত সদস্য গৌতম পাল। তাঁর দাবি, “কাউন্সেলিং এবং লিখিত পরীক্ষা একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০১৪ সালের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা আইনের ২(৮) ধারা অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। সেই নিয়ম পরিবর্তনের অধিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই। ফলে এই সিদ্ধান্ত আইনসম্মত নয়।” জয়েন্ট বোর্ড সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই বিধিতে পরিবর্তন আনতে হলে বিধানসভায় আলাদা করে বিল পাস করাতে হবে। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল বলেন, “ফ্যাকাল্টি কাউন্সিল আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় নিজেরাই পরিচালনা করবে। কর্মসমিতির বৈঠকেও সর্বসম্মতভাবে সেই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।”

গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকেই এ বার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তির কাউন্সেলিং নিজেদের হাতে নিতে আগ্রহী (Jadavpur University) কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের অভিযোগ, ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত জটিলতার জেরে ফলপ্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় বহু মেধাবী পড়ুয়াকে হারাতে হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই এ বার কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া নিজেদের উদ্যোগে পরিচালনার কথা ভাবা হচ্ছে। যদিও রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও আপত্তি নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলের, তারা মূলত মেধাতালিকার ভিত্তিতে ভর্তি প্রক্রিয়াটি নিজেরাই সম্পন্ন করতে চায়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষা নেওয়ার পর জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড মেধাতালিকা প্রকাশ করে এবং তার ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। কিন্তু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মত, বোর্ড মেধাতালিকা প্রকাশের পর কাউন্সেলিংয়ের দায়িত্ব তাদের হাতে থাকলে ভর্তি প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

গত বছর ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে জটিলতার কারণে জয়েন্টের ফলপ্রকাশে উল্লেখযোগ্য দেরি হয়েছিল। তার পর অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের পর দেখা যায়, একাধিক আসন ফাঁকা থেকে গিয়েছে। এমনকি রাজ্যের জয়েন্টে প্রথম ১০০-র মধ্যে থাকা কোনও পড়ুয়াই যাদবপুরে ভর্তি হননি। কম্পিউটার সায়েন্স ছাড়া অন্য কোনও বিভাগেও প্রথম ২৫০-র মধ্যে থাকা পড়ুয়াদের উপস্থিতি ছিল না, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশের মতে, যদি ভর্তি প্রক্রিয়া নিজেদের হাতে নেওয়া যায়, তা হলে দীর্ঘমেয়াদে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক মান এবং NIRF Ranking-এ অবস্থানের উপর। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে যাদবপুরের অবস্থান আরও উন্নত হতে পারে বলেই মনে করছেন তারা।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole