নিউজ পোল ব্যুরো: চিকিৎসকেরা রোগ নিরাময়ে ওষুধ দেওয়ার আগে, সেই ওষুধগুলিকে নানা রকম যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। প্রথমে ল্যাবরেটরিতে ওষুধের ডোজ ও তার বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (Side Effects) নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলে। তার পর সেই ওষুধগুলির কার্যকারিতার উপর নির্ভর করে চিকিৎসকেরা রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করে থাকেন। এর পরেও ওষুধের নানা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল (Clinical Trial) চলে এবং শেষমেশ তা খোলা বাজারে বিক্রি হয় সকলের ব্যবহারের জন্য। ওষুধ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষার কাজ মূলত ফার্মাসিস্টদের (Pharmacists) দ্বারাই পরিচালিত হয়। তাই চিকিৎসাক্ষেত্রে অনেক সময়ই ফার্মাসিস্টদের (Career in Pharmacy) ভূমিকা কিছুটা আড়ালে থাকলেও, সাধারণ মানুষের জন্য ওষুধ তৈরি ও বিতরণের ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও পড়ুন:Arijit Singh: ‘সইয়ারা’-য় নেই অরিজিৎ! কেন সুযোগ পেলেন না? জানালেন পরিচালক মোহিত সুরি
শিক্ষাগত যোগ্যতা:
ফার্মাসি (Pharmacy) নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পড়ুয়াদের দ্বাদশ শ্রেণিতে পদার্থবিদ্যা (Physical Science), রসায়ন (Chemistry), জীববিদ্যা (Life Science) ও অঙ্ক (Mathematics) নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। ন্যূনতম নম্বর থাকতে হয় ৫০ শতাংশ বা তার বেশি। এর পর রাজ্য বা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রবেশিকা (Entrance) পরীক্ষার মাধ্যমে পড়ুয়াদের যোগ্যতা যাচাই করে স্নাতকে ভর্তি নেওয়া হয়। পশ্চিমবঙ্গের নামী প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তির ক্ষেত্রে যোগ্যতা যাচাই করা হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট এন্ট্রান্স এগজামিনেশন (WBJEE)-এর মাধ্যমে।
প্রধান কোর্সসমূহ:
ডিপ্লোমা ইন ফার্মাসি (DPharm): এটি একটি দু’বছরের ডিপ্লোমা কোর্স। নিজস্ব ফার্মাসি বা ওষুধের দোকান খোলার জন্য এটি ন্যূনতম প্রয়োজনীয় যোগ্যতা বলে বিবেচিত। এর জন্য পড়ুয়াদের (Career in Pharmacy) বিজ্ঞান নিয়ে দ্বাদশ উত্তীর্ণ হতে হয়। DPharm কোর্সের পড়ুয়ারা মেধার ভিত্তিতে BPharm কোর্সের দ্বিতীয় বছরে ভর্তির সুযোগ পান। DPharm কোর্সে ভর্তির জন্য কোনও প্রতিষ্ঠানের তরফে শুধু ইন্টারভিউয়ের আয়োজন করা হয়, আবার কোনও ক্ষেত্রে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
বিফার্ম (BPharm): BPharm বা ফার্মাসির স্নাতকের কোর্সটি চার বছরের। এ ক্ষেত্রেও পড়ুয়াদের বিজ্ঞান নিয়ে দ্বাদশ উত্তীর্ণ হতে হয়। পাশাপাশি রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা বা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশিকা পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে হয়।
ফার্ম ডি (PharmD): বিজ্ঞান নিয়ে দ্বাদশ উত্তীর্ণ হওয়ার পর পড়ুয়ারা ছ’বছরের PharmD কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। এটি একটি পেশাদারি ডক্টরাল প্রোগ্রাম (Professional Doctoral Program)। যেখানে পাঁচ বছরের একাডেমিক বিষয়বস্তু ছাড়াও এক বছর ইন্টার্নশিপ করানো হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে এই ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পান পড়ুয়ারা। BPharm-এ পাঠরতরা মেধার ভিত্তিতে PharmD কোর্সের চতুর্থ বছরে ল্যাটারাল এন্ট্রির (Lateral Entry) মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ পান।
এমফার্ম (MPharm): পড়ুয়ারা স্নাতকের পর ফার্মাসিতে স্নাতকোত্তরের জন্য MPharm কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। দু’বছরের এই কোর্সে সুযোগ থাকে একাধিক বিষয়ে স্পেশালাইজেশনের (Specializations)। তবে MPharm পড়ার জন্য উত্তীর্ণ হতে হয় GPAT-এ।
ডি ফার্ম (DPharm): যাঁদের BPharm ডিগ্রি রয়েছে, তাঁরা এই DPharm কোর্সে ভর্তির সুযোগ পাবেন। এই কোর্স পড়ুয়াদের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস (Clinical Practice) এবং গবেষণার কাজের মাধ্যমে পেশাদারি দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। এটি তিন বছরের কোর্স। যার মধ্যে শেষ এক বছর ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তরফে কোর্সে ভর্তির জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।
পিএইচডি ইন ফার্মাসি (PhD in Pharmacy): পড়ুয়ারা চাইলে উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য ফার্মাসিতে PhD করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাঁদের স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হওয়া জরুরি। কলেজের তরফে আয়োজিত প্রবেশিকা পরীক্ষার (Entrance Exam) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কোর্সে ভর্তির যোগ্যতা যাচাই করা হয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা:
শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি পড়ুয়াদের (Career in Pharmacy) স্টেট লাইসেন্স থাকাও জরুরি। একজন রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট হিসাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ফার্মাসি কাউন্সিল (State Pharmacy Council) প্রদত্ত রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট থাকা জরুরি। তবে এখানে উল্লেখযোগ্য, স্নাতকের পরই লাইসেন্সের জন্য আবেদন জানানো যায়, স্নাতকোত্তর বা PhD যোগ্যতা থাকার প্রয়োজন হয় না।
পশ্চিমবঙ্গে ফার্মাসি পড়ার জন্য উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান:
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Calcutta)
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফার্মাসিউটিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (NIPER – National Institute of Pharmaceutical Education and Research)
গুরু নানক ইনস্টিটিউট অফ ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (Guru Nanak Institute of Pharmaceutical Science and Technology)
ডক্টর বি সি রায় কলেজ অফ ফার্মাসি অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (Dr. B. C. Roy College of Pharmacy and Allied Sciences)
