Supreme Court: আইনের চোখে এবার বিচারপতি, যশবন্ত ভার্মা মুখোমুখি সংবিধানের কাঠগড়ায়

দেশ

নিউজ পোল ব্যুরো: একজন বিচারপতি দোষী ও নির্দোষ বিচার করেন। কিন্তু বিচারপতি যদি দোষী হন তাহলে তার বিচার করে (Law and justice) কে? বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা আজ জেগেছে সেই জনতা। কথাটা কবিতায় সুন্দর শোনালেও ভারতীয় সংবিধানে (constitution) কিন্তু জনতা নয়, ভারতীয় সংবিধানের আর্টিকেল ১২৪ এবং ২১৭ ধারায় বিচারপতির বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চালাবার জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধেও সংবিধানের ধারা ৬১ নম্বর অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব। সম্প্রতি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট তথা দোষী কিংবা নির্দোষ প্রক্রিয়া চালাবার জন্য সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) থেকে 3 সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা স্থগিতাদেশ দাবি করেছেন।

কিন্তু এই প্রক্রিয়ার কারণ কি?
সম্প্রতি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত ভার্মা ছুটিতে বাইরে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেই সময় তার বাড়ির গুদাম ঘরে আগুন লাগে।দমকল কর্মীরা সেই আগুন নেভাতে গিয়ে দেখেন সেখানে বান্ডিল বান্ডিল নোট পুড়ে গিয়েছে। এই খবর সংবাদ মাধ্যমের হাত ধরে দিল্লী হাইকোর্ট,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার কাছে পৌঁছয়।সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন (constitution)কিন্তু মানুষের মনে প্রশ্ন, এই তদন্ত কমিটির ফলাফলে যদি বিচারপতি দোষী সাব্যস্ত হন তাহলে কি হবে।এই বিষয়ে যে প্রক্রিয়া(constitution) আছে তা বিশদে এই। তিন সদস্যের মেম্বার প্রমাণ না পেলে তদন্ত বন্ধ হয়ে যাবে আর যদি দোষ পাওয়া যায় তাহলে হাইকোর্টের বিচারপতিকে রিমুভ কিংবা ইমপিচমেন্ট(law and justice) বা সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চাইবেন। কিন্তু হাইকোর্টের কোন বিচারপতিকে সরাতে গেলে যে দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয় তা অনেকটাই লম্বা,কারণ সাংবিধানিক ( constitution) ধারা সমূহ।

প্রথমত, ওই কমিটিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী এই প্রমাণে সন্তুষ্ট হতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে রাজ্যসভা এবং লোকসভা দুই কক্ষে আবেদন করতে হয়। সেখানে দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন পেতে হবে এবং প্রক্রিয়া চালাতে হবে। দোষী পেলে ফের পার্লামেন্টে লোকসভা ও রাজ্যসভার দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদন লাগবে ইমপিচমেন্ট(law and justice) বা শাস্তি প্রক্রিয়া চালানর জন্য। এর আগে রামস্বামী স্বামীর(law and justice) বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সালে প্রথমবার এই ধরনের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন পায়নি। ফলে সেই প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। এরপরে ২০১১ সালেও আর একবার বিচারপতি সৌমিত্র সেনের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট(law and justice) প্রস্তাব আসে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া(Law and justice) শুরুর আগেই সৌমিত্র সেন পদত্যাগ করেন। প্রসঙ্গত, পদত্যাগ করলে অবসরকালীন ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার অধিকার থাকে কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে দোষী সাব্যস্ত হলে অবসর পরবর্তী সুবিধা পাওয়ার অধিকার থাকেনা। অর্থাৎ সাধারণ মানুষের বিচার যেমন দীর্ঘ মেয়াদি হয়, তার চাইতে কিছু কম সময় লাগেনা বিচারপতির বিচারের ব্যাপারেও। তবে বিচার পাওয়া সম্ভব। সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসারেই।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole