নিউজ পোল ব্যুরো: মঙ্গলবার সকাল থেকেই টলিপাড়ায় শুরু হচ্ছে সাময়িক কর্মবিরতি (Tollywood Strike)। রবিবার সন্ধ্যায় আর্টিস্ট ফোরামের জরুরি বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। শিল্পীদের নিরাপত্তা (Artists Safety) নিশ্চিত করার দাবিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের স্পষ্ট বার্তা শুটিং সেটে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা (Film Set Safety) না থাকলে কাজ বন্ধই থাকবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের প্রথম সারির শিল্পীরা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে। অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও আলোচনায় অংশ নেন। আর্টিস্ট ফোরামের পাশাপাশি ফেডারেশন (Technicians Federation) প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং শিল্পীদের সুরক্ষার দাবিতে তারাও সরব হন। যৌথ আলোচনার ভিত্তিতেই সাময়িক কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় (Tollywood Strike)।
আরও পড়ুন: Justice For Rahul : ‘বাবিন’-এর মৃত্যুরহস্যে উত্তাল টলিউড, বিচার চেয়ে রাস্তায় তারকারা
এদিকে, তালসারিতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার জেরে শুটিং ইউনিটের কয়েকজন সদস্যকে শোকজ নোটিস (Show Cause Notice) পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রিয়াঙ্কা সরকার তালসারি থানায় একটি এফআইআর (FIR Case) দায়ের করেছেন। অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন মোট পাঁচজন—ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর সঙ্গে যুক্ত শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল, ফ্লোর এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার শান্তনু নন্দী এবং ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (Bharatiya Nyaya Sanhita) ১০৬(১), ২৪০ এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, শুটিং চলাকালীন বিপজ্জনক পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও প্রযোজনা সংস্থা সেই ঝুঁকি উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যায়। তার দাবি, এই গাফিলতির কারণেই প্রাণ হারাতে হয়েছে অভিনেতাকে। এমনকি ঘটনার পর ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে (Tollywood Strike)।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ তালসারিতে শুটিং চলাকালীনই এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক ময়নাতদন্তে জলে ডুবে মৃত্যুর ইঙ্গিত মিললেও, পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। এই রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে মৃত অভিনেতার পরিবার এবং টলিউডের একাংশ ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে। যদিও অভিযোগ উঠেছে, এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া মেলেনি। লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তাদের ফোনে পাওয়া যায়নি। ফলে এই ঘটনার জেরে টলিপাড়ায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে (Tollywood Strike)।
