নিউজ পোল ব্যুরো:বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে আদর্শগত মেরুকরণের সুরকে সপ্তমে চড়িয়ে এক অভূতপূর্ব রণকৌশল সাজাল ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক বক্তব্যে উঠে এল এক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের ডাক, যেখানে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ক্ষমতায় এলে ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’-এর মতো সামাজিক ব্যাধির মূলে কুঠারাঘাত করাই হবে তাঁদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সমালোচকদের পক্ষ থেকে ধেয়ে আসা ‘সাম্প্রদায়িক’ তকমাকে বিন্দুমাত্র পরোয়া না করে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে তাঁর কাছে দেশ ও জাতির স্বার্থই ধ্রুব সত্য। শমীক ভট্টাচার্যের (Samik Bhattacharya) মতে, এই নির্বাচন নিছক কোনো ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং এটি এক গভীর ‘সভ্যতার লড়াই’। ওপার বাংলার সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান শাসকদলের প্রত্যাবর্তন ঘটলে তা কেবল বাঙালি হিন্দুদের জন্যই নয়, বরং জাতীয়তাবাদী ও যুক্তিবাদী মুসলমানদের জন্যও অন্তিম নির্বাচনে পরিণত হতে পারে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে চরমপন্থার যে বিষবাষ্প দানা বাঁধছে, তা সমগ্র রাজ্যের স্থিতিশীলতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে তাঁর অভিমত।
বিজেপি সভাপতির অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে সুপরিকল্পিত সামাজিক ও ভৌগোলিক আগ্রাসন। তিনি দাবি করেছেন, হিন্দু নারীদের পরিচয় গোপন করে প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরিত করার এক সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র যেমন চলছে, তেমনই অনুপ্রবেশকারীরা সুকৌশলে আদিবাসী কন্যাদের বিবাহ করে তাঁদের ভূসম্পত্তি গ্রাস করছে। মুর্শিদাবাদকে কেন্দ্র করে অনুপ্রবেশের এই যে জাল বিস্তার লাভ করছে, তা পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ড ও বিহারের জনবিন্যাস পরিবর্তনের জন্য বাংলার ভূমিকে ব্যবহার করার এক অশুভ ইঙ্গিত। বিরোধীদের তীব্র সমালোচনাকে উপেক্ষা করেই তিনি বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর-এর পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন। রাজারহাটের বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের পর রহস্যময় অন্তর্ধান এবং তদন্তের আশঙ্কায় নয়ডা বা গুরুগ্রামগামী তথাকথিত পরিযায়ী শ্রমিকদের রাতারাতি উধাও হয়ে যাওয়াকে তিনি অনুপ্রবেশের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
আদর্শগত এই লড়াইয়ে শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর একটি ঐতিহাসিক উক্তি স্মরণ করে বলেন যে, যখন চতুর্দিক থেকে বিরোধীরা একযোগে আক্রমণ শানায়, তখনই প্রমাণিত হয় যে অনুসৃত পথটি নির্ভুল। ১৯৫০-এর দশক থেকে চলে আসা বিজেপির এই দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ে জয়-পরাজয়ের চেয়েও একটি ‘নিখুঁত ভোটার তালিকা’ এবং ‘জাতীয় সুরক্ষা’ নিশ্চিত করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন। নির্বাচনের ঠিক আগে শমীক ভট্টাচার্যের এই কট্টর অবস্থান ও ‘জিহাদ’ বিরোধী হুঙ্কার বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে যে তীব্র মেরুকরণের বিতর্ক উসকে দিয়েছে, তা আগামী দিনের ভোটযুদ্ধে এক অনন্য ও জটিল মাত্রা যোগ করবে।
