আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দীর্ঘ সংঘাতের (Iran us war) পর সাময়িকভাবে স্বস্তি ফিরেছে আন্তর্জাতিক জলপথে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী (Strait of hormuz) পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলেও, এবার এর ব্যবস্থাপনায় কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ইরান। নতুন নিয়ম ও শর্তের মাধ্যমে এই কৌশলগত জলপথের উপর নিজেদের প্রভাব আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর (Strait of hormuz) পরিচালনা এখন “নতুন পর্যায়ে” প্রবেশ করছে। তাঁর বক্তব্য, যারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে, তাদের কোনোভাবেই বিনা মূল্যেই ছেড়ে দেওয়া হবে না। যুদ্ধের ফলে দেশের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ আদায়ে ইরান দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও জানান তিনি।
মোজতবা খামেনেই বলেন, যুদ্ধের প্রতিটি ক্ষতি, নিহতদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের ক্ষতিপূরণ আন্তর্জাতিকভাবে দাবি করা হবে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে নিজের অধিকার ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করবে না।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও হরমুজ প্রণালী (Strait of hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচলে কড়া বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে ইরান। রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একটি শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারবে। প্রতিটি জাহাজকে আগে থেকেই ইরানের অনুমোদন নিতে হবে এবং আইআরজিসি (IRGC)-র নির্ধারিত প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে ইরানের নতুন নীতি আন্তর্জাতিক তেলবাজার, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
