Kakoli Ghosh Dastidar:‘হুমকি দিয়েছিল, দলকে ডুবিয়েছে’— ইস্তফার পর আইপ্যাকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:রাজ্যের সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও মতানৈক্যের ইঙ্গিত আরও প্রকট হয়ে উঠল বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের (Kakoli Ghosh Dastidar) সাম্প্রতিক মন্তব্যে। জেলা সভাপতি পদ থেকে ইস্তফার পর তিনি নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে যে বিস্ফোরক অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, তা রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন:Purba Bardhaman Syndicate Raj:”সিন্ডিকেট ভাঙলেই কমবে বালির দাম” দুর্নীতির বিরুদ্ধে পূর্ব বর্ধমানে প্রশাসনের কড়া বার্তা!

তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তাঁকে একাধিকবার চাপ ও হুমকির সম্মুখীন হতে হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার কার্যপদ্ধতি দলীয় সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে গভীর সংকটের জন্ম দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, ওই প্রক্রিয়ার ফলেই সংগঠনের ভিতর ‘গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি’ সংঘটিত হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থতার পর থেকেই দলের অন্দরমহলে আত্মসমালোচনা ও পর্যালোচনার ধারা ক্রমশ তীব্রতর হয়েছে।

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আহ্বানে অনুষ্ঠিত সাংসদ, বিধায়ক ও জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কাঠামো ও নির্বাচনী রণনীতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ বিতর্ক আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের বক্তব্য রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন মাত্রা সংযোজন করেছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

উল্লেখ্য, সম্প্রতি লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের মুখ্য সচেতক পদ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে পুনরায় ওই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই সিদ্ধান্তের পর সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তিনি লেখেন, ১৯৭৬ সাল থেকে পরিচয়ের সূচনা এবং ১৯৮৪ সাল থেকে রাজনৈতিক যাত্রার দীর্ঘ অধ্যায়ের কথা উল্লেখ করে, দীর্ঘ চার দশকের আনুগত্যের পরিণতিতে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গভীর হতাশার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।

অন্যদিকে, রাজ্যের একাধিক তৃণমূল নেতার নিরাপত্তা কাঠামোতে কাটছাঁট করা হলেও ব্যতিক্রমীভাবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে (Kakoli Ghosh Dastidar) কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে ‘ওয়াই প্লাস’ স্তরের নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছে, যা ঘিরেও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানাবিধ জল্পনা ও ব্যাখ্যার উদ্ভব হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনার মতো তৃণমূলের ঐতিহ্যবাহী শক্ত ঘাঁটিতে সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল দলীয় প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। জেলার ৩৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে মাত্র ৯টিতে তৃণমূলের জয়লাভ এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বিরোধী শিবিরের সাফল্য দলীয় পর্যালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই ফলাফলের পর থেকেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সাংগঠনিক গুরুত্ব ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে এবং পরবর্তীতে তাঁকে মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে পূর্বে নেতৃত্ব দিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, পরবর্তীতে সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব অর্পিত হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ইস্তফা ও নির্বাচনী রণনীতি নির্ধারণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে তাঁর উত্থাপিত অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে নতুন করে চাপ ও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। আগামী দিনে এই ঘটনাপ্রবাহ দলীয় পুনর্গঠন ও নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলবে, সে দিকেই নজর রয়েছে রাজনীতির পর্যবেক্ষক মহলের।