নিউজ পোল ব্যুরো: ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে ওড়িশায় (Odissa) বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর লাগাতার নিপীড়নের অভিযোগ নতুন করে তীব্র আকার নিয়েছে। এই ঘটনার জেরে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) যুবক জুয়েল রানার মৃত্যুর পর রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জুয়েলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা এলাকা। এই আবহেই শনিবার জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) নিহত শ্রমিকের বাড়িতে পৌঁছে পরিবারের পাশে দাঁড়ান।
হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) জুয়েলের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মায়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। শোকাহত পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দিয়ে তিনি আশ্বাস দেন, জুয়েলের পরিবারের পাশে তিনি ও তাঁর দল থাকবেন। হুমায়ুনের (Humayun Kabir) বক্তব্য, শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য কাউকে বাংলাদেশি সন্দেহে মারধর করা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। এই ধরনের বর্বরতা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, চলতি মাসের ২০ তারিখ ওড়িশার সম্বলপুরে কাজ করতে যান জুয়েল রানা ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মী। দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন তাঁরা। বুধবার রাতে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে সহকর্মীদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলার সময় আচমকাই পাঁচ জন দুষ্কৃতী এসে তাঁদের উপর চড়াও হয়। অভিযোগ, বাংলাদেশি সন্দেহে জুয়েলকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
২৬ ডিসেম্বর জুয়েলের মৃতদেহ মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) সুতি থানার চক বাহাদুরপুর গ্রামে তাঁর বাড়িতে আনা হয়। ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন জুয়েলের মা। তাঁর দাবি, পরিবারের একজন সদস্যের স্থায়ী কাজের ব্যবস্থা হলে কিছুটা হলেও সংসারের হাল ফিরবে।
এই ঘটনার পর একের পর এক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি জুয়েলের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করছেন। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং একজন সদস্যকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সংগঠন এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। পুলিশের তরফে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে কড়া শাস্তির দাবি উঠেছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
