নিউজ পোল ব্যুরো:পূর্ব বর্ধমানে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কথিত ‘সিন্ডিকেটরাজ’-এর (Purba Bardhaman Syndicate Raj) বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে প্রশাসনিক স্তরে। বালি ব্যবসা থেকে শুরু করে সরকারি ধান ক্রয়— বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রুখতে একাধিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। এই খবর সামনে আসতেই জেলার বিভিন্ন মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:Rajarhat Newtown:বাবলাতলায় বদলের ছবি, নবনির্বাচিত বিধায়ককে সংবর্ধনা, সম্মানিত ২০০ কৃতী পড়ুয়া!
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বালিঘাট থেকে বালি পরিবহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্তরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা ছিল। ফলে পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তার প্রভাব পড়ত বাজারদরে। সাধারণ মানুষের দাবি, এই ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা গেলে নির্মাণ সামগ্রীর খরচ কিছুটা হলেও কমতে পারে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, বেআইনি বালি উত্তোলন ও পরিবহণের উপর নজরদারি বাড়ানো হলে একদিকে যেমন রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে বাজারে স্বচ্ছতাও ফিরবে। সম্প্রতি দুর্গাপুরে অনুষ্ঠিত একটি প্রশাসনিক বৈঠকেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে আলোচিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
শুধু বালি নয়, সরকারি ধান ক্রয় প্রক্রিয়াতেও অনিয়ম রোধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষিনির্ভর পূর্ব বর্ধমান (Purba Bardhaman Syndicate Raj)) জেলায় প্রকৃত চাষিদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে প্রশাসন তৎপর হয়েছে বলে সূত্রের খবর। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে কিছু ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীরা সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে লাভবান হলেও প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হয়েছেন।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি ধান ক্রয় শিবিরে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। কোথাও অনিয়ম বা দালালচক্রের সক্রিয়তার অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
এদিকে জেলার বেশ কিছু পঞ্চায়েত এলাকায় প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি আধিকারিকদের মাধ্যমে পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পে সম্ভাব্য অনিয়ম খতিয়ে দেখার কাজও শুরু হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই অবস্থান শুধুমাত্র প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি ও সরকারি পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার প্রচেষ্টার অংশ। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সফল হয়, সেদিকেই এখন নজর জেলার বাসিন্দাদের।
