TMC MLA meeting cancelled:৮০ বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই অনুপস্থিত, বাতিল মমতার ডাকা বৈঠক!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:তৃণমূল কংগ্রেসের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ২০ জনের উপস্থিতিতে রবিবার কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে ডাকা পরিষদীয় দলের বৈঠক কার্যত ভেস্তে যায় (TMC MLA meeting cancelled)। পর্যাপ্ত উপস্থিতি না থাকায় নির্ধারিত ‘কোরাম’ পূরণ হয়নি, ফলে বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত বাতিল ঘোষণা করা হয়। দলীয় সূত্রের দাবি, পরিষদীয় দলের বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূলের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিধায়কদের সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল এবং গুরুত্ব বাড়াতে তা মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুন:Kalyan Banerjee:চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন ঘিরে উত্তেজনা, মাথায় আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়!

তবে নির্ধারিত দিনে বিধায়কদের উল্লেখযোগ্য অংশ অনুপস্থিত থাকায় পরিস্থিতি জটিল আকার নেয়। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র ২০ জন উপস্থিত হওয়ায় বৈঠক কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় বৈঠক বাতিল করা হয় (TMC MLA meeting cancelled) বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।

যদিও বৈঠক বাতিল নিয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, শনিবার সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার পর থেকেই বিধায়কেরা বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যস্ত ছিলেন। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কর্মীদের উপর হামলা ও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এই প্রেক্ষাপটে আগের দিন সন্ধ্যা থেকেই বহু বিধায়কের তরফে বৈঠকের দিন পুনর্বিন্যাসের অনুরোধ আসে বলে তিনি জানান।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

কুণাল ঘোষ আরও দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ব্লকে ব্লকে দলীয় কর্মসূচি ও প্রতিবাদ মিছিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে আপাতত সাংগঠনিক অগ্রাধিকার পরিবর্তিত হওয়ায় রবিবারের বৈঠক স্থগিত রাখা হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য।

তবে দলীয় ব্যাখ্যা সত্ত্বেও প্রশ্ন উঠছে, যদি আগেই বৈঠক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে, তবে নির্ধারিত দিনে কেনই বা প্রায় ২০ জন বিধায়ক কালীঘাটে উপস্থিত হন—সে বিষয়ে স্পষ্টতা মেলেনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নেতৃত্বের তরফে উপস্থিতির সংখ্যা ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়ে থাকতে পারে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, উপস্থিত বিধায়কদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র, পলাশিপাড়ার রুকবানুর রহমান, বজবজের অশোক দেব, পাঁচলার গুলশন মল্লিক, মালতীপুরের আব্দুল রহিম বক্সী, কুমারগঞ্জের তোরাফ হোসেন মণ্ডল প্রমুখ। অন্যদিকে, অনুপস্থিতদের তালিকায় ছিলেন এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা, কসবার বিধায়ক জাভেদ খান এবং মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা। তাঁদের একাধিকজনের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগও সম্ভব হয়নি বলে সূত্রের দাবি।

সব মিলিয়ে কালীঘাটে ডাকা এই পরিষদীয় দলের বৈঠক ঘিরে উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির অঙ্ক এবং পরবর্তী ব্যাখ্যা—দুই মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।