একাই গিলেছেন নগদ ২০ কোটি! ৩৪০ জনের চাকরি বিক্রির মাস্টারমাইন্ড সুজিত বসু! গ্রেফতারির ৯ দিনেই ইডির বিস্ফোরক চার্জশিট! নাম জড়াল ছেলেরও!

breakingnews অপরাধ রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার এক চরম পরমাণু বোমা ফাটাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি! রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারির ঠিক ৯ দিনের মাথায় বিশেষ আদালতে পেশ করা হলো ১৮৬ পাতার এক হাড়হিম করা মূল চার্জশিট। আর সেই চার্জশিট সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত ভূমিকম্প শুরু হয়ে গিয়েছে। ইডির স্পষ্ট দাবি, পুরসভা নিয়োগের এই মেগা কেলেঙ্কারির আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল মাথা ছিলেন এই সুজিত বসু নিজেই!

তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগের নামে হওয়া গোটা দুর্নীতির বাজারে একাই নগদ ২০ কোটি টাকা পকেটে পুরেছিলেন সুজিত বসু। এখানেই শেষ নয়, ইডির এই মেগা চার্জশিটে সুজিত বসুর পাশাপাশি নাম জড়িয়েছে তাঁর নিজের ছেলে সমুদ্র বসু এবং তাঁর মালিকানাধীন দুটি ভুয়ো সংস্থার! তদন্তকারীদের দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় ভুয়ো চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে একাই ৩৪০ জন প্রার্থীর নাম বেআইনিভাবে সুপারিশ করেছিলেন এই প্রাক্তন মন্ত্রী। আর প্রতিটা চাকরিপ্রার্থীর মাথা পিছু নগদ ৬ লক্ষ টাকা করে কাটমানি আদায় করেছিলেন সুজিতবাবু, যার মোট অঙ্ক গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি টাকায়! ইডি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই পুরো র্যাকেটের আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল চক্রী ছিলেন খোদ সুজিত বসু। অন্যদিকে, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তৎকালীন ডিরেক্টর জ‍্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরেও ৩ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি হয়েছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।

বিশেষ আদালতে কেন্দ্রীয় এজেন্সির আইনজীবীরা চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানান, পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতিতে এখনো পর্যন্ত মোট ২৫০ কোটি টাকার এক বিশাল ও কাল্পনিক দুর্নীতির হদিস মিলেছে! সুজিত ও তাঁর ছেলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জাল খতিয়ান এবং ভুয়ো লকার থেকে যে বিপুল পরিমাণ কালো টাকার হদিস মিলছে, তাতে অপরাধীদের এবার সোজা শ্রীঘরের অন্ধকার কুঠুরিতে পচতেই হবে।