নিউজপোল ব্যুরো: আদালতের রায়ে ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের ক্ষত এখনও মেটেনি, তার মধ্যেই ফের শিক্ষক নিয়োগে মারাত্মক ধাক্কা! একাদশ-দ্বাদশের বহুল প্রতীক্ষিত কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া হঠাৎ করেই বন্ধ ঘোষণা করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। কথা ছিল আগামী ১৪ আগস্ট থেকে বাকি থাকা ১২টি বিষয়ের কাউন্সেলিং শুরু হবে। কিন্তু বুধবার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করে কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই কাউন্সেলিং পর্ব সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে। দু’দিন আগেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদ পুলিশ ভেরিফিকেশন ও মেডিক্যাল টেস্ট বন্ধের ঘোষণা করেছিল। এবার এসএসসি-র এই সিদ্ধান্তের পর যোগ্য শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ আবারও এক চরম অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কার মুখে এসে দাঁড়াল।
এই নতুন আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার মূলে রয়েছে ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ বিধির রদবদল। জানা গিয়েছে, পূর্বতন সরকারের আমলে ১৭ শতাংশ ওবিসি সংরক্ষণের ওপর ভিত্তি করে যে মেধাতালিকা ও কাউন্সেলিংয়ের রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই সংরক্ষণ কমিয়ে ৭ শতাংশে নিয়ে এসেছে। এর ফলে পুরনো তালিকার ভিত্তিতে যারা নিয়োগপত্রের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ এখন প্রশ্নের মুখে। নতুন করে প্যানেল তৈরি হবে নাকি পুরনো নিয়ম বহাল থাকবে, তা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত হাত গুটিয়ে নিতে বাধ্য হলো কমিশন।
এসএসসি কার্যত স্বীকার করে নিয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টের বেঁধে দেওয়া ৩১ আগস্টের সময়সীমার মধ্যে কোনোভাবেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তাই সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে কমিশন। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৩১ আগস্টই বহু শিক্ষকের স্কুলে যাওয়ার শেষ দিন। তার পর থেকে বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে দিন গুনছেন হাজার হাজার চাকরিহারা শিক্ষক, যাঁরা নতুন করে পরীক্ষা দিয়ে পাস করেও আজ আবার মাঝদরিয়ায়। সংরক্ষণ বিধির এই চক্রব্যূহ থেকে বের হতে কমিশন আদালতের থেকে কী পথনির্দেশ পায়, এখন সেদিকেই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রাজ্যের হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী।
