সুড়ঙ্গ আর কাদা-পাথরের নিচে আটকে থাকা মানুষদের বাঁচাতে শেষ চেষ্টা! ৪ দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নেপালে মেগা অপারেশন

breakingnews অফবিট আন্তর্জাতিক

নিউজপোল ব্যুরো: জল-কাদা-পাথরের স্রোতে তছনছ নেপাল। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। দুর্গম এলাকা থেকে একের পর এক নিখোঁজের খবর আসায় এবার উদ্ধারকাজে বড় সিদ্ধান্ত নিল নেপাল সরকার। শুধু দেশের নিরাপত্তাবাহিনীর উপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার পথ খুলে দেওয়া হল। ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিগত দলকে উদ্ধার অভিযানে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে খবর।

নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের পরিস্থিতি পর্যালোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত বলে জানা যাচ্ছে। মূল লক্ষ্য, হড়পা বানের জেরে ধসে যাওয়া এলাকা, সুড়ঙ্গ এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত খুঁজে বের করা। শুধু জীবিতদের উদ্ধার নয়, নিখোঁজদের সন্ধান এবং মৃতদেহ শনাক্তকরণেও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হবে। বিশেষ করে সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের খোঁজে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে। দুর্গম জায়গায় কোথাও ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা চিহ্নিত করতে বিশেষ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগানো হবে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া দেহের পরিচয় নিশ্চিত করতে DNA পরীক্ষা এবং ফরেন্সিক তদন্তেও সাহায্য করবেন বিশেষজ্ঞরা।

বিপর্যয়ের পর থেকেই নেপালের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল বিভিন্ন দেশের। কারণ শুধু নেপালের বাসিন্দাই নন, বহু বিদেশি পর্যটকও এই ভয়াবহ বন্যার মধ্যে আটকে পড়েছেন। ভারত-সহ একাধিক দেশের নাগরিকের এখনও কোনও খোঁজ নেই। ফলে নিজেদের নাগরিকদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলির তরফে নেপাল সরকারের উপর চাপও বাড়ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। নেপাল সরকারের এক আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মহলের অনুরোধের পর নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমিত সংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ গোটা উদ্ধার অভিযান বিদেশি বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট জায়গায় তাঁদের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা ব্যবহার করা হবে।

এর আগে নেপাল সরকার জানিয়েছিল, দেশের নিরাপত্তাবাহিনীই উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ সামলাতে সক্ষম। সেনা, পুলিশ এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই দুর্গম এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। আকাশপথে হেলিকপ্টার দিয়ে নজরদারি চলছে। ড্রোনের সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির ছবি নেওয়া হচ্ছে। আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

তবে বিপর্যয়ের ব্যাপকতা যত সামনে আসছে, ততই বোঝা যাচ্ছে পরিস্থিতি কতটা কঠিন। প্রবল স্রোতে রাস্তা, সেতু এবং যোগাযোগের একাধিক পথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও আবার জল, কাদা ও পাথরের স্তূপে পুরো এলাকা ঢেকে গিয়েছে। ফলে স্থলপথে উদ্ধারকারী দলের পৌঁছনোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের তালিকায় বিদেশি নাগরিকের পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মীরাও রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ। কে কোথায় আটকে রয়েছেন, কারা জীবিত এবং কারা নিখোঁজ—সব তথ্য একত্র করে উদ্ধার অভিযান এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন নেপাল প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় কাজ।