নিউজপোল ব্যুরো: রক্তের মতো জরুরি পরিষেবা ঘিরে অনিয়মের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই নজরে ছিল কলকাতার একাধিক বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক। সেই তালিকায় থাকা তিনটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। একাধিক শর্ত মেনে নেওয়া এবং মুচলেকা জমা দেওয়ার পর হাজরা, আলিপুর ও যোধপুর পার্কের তিন বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
হাজরার পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্ক, আলিপুরের কোঠারি ব্লাড ব্যাঙ্ক এবং যোধপুর পার্কের অশোক ব্লাড ব্যাঙ্ক—এই তিনটির উপর আগে রক্ত ও প্লাজমা সংক্রান্ত একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহের উপর বিধিনিষেধ জারি করেছিল স্বাস্থ্য দফতর। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর নির্দিষ্ট কিছু শর্তে কাজ চালানোর বিষয়ে মুচলেকা দেয় সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি। তবে নিষেধাজ্ঞা উঠলেও পুরোপুরি ছাড় মিলছে না। রক্তদান শিবির থেকে ইচ্ছেমতো রক্ত সংগ্রহ করতে পারবে না এই তিন প্রতিষ্ঠান। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রক্ত সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতরের অনুমতি ছাড়া অন্য রাজ্যে রক্ত বা প্লাজমা পাঠানো যাবে না বলেও শর্ত রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ১২টি ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত পাঁচটির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাকি সাতটি ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর নিষেধাজ্ঞা এখনও বহাল রয়েছে। এদিকে রক্ত সংগ্রহকে কেন্দ্র করে তদন্তে আরও গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছিল। স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তে বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়াদের রক্তদান শিবিরে ডাক্তার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে। এমনকি ক্যাম্পের জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ ‘কাটমানি’ হিসেবে নেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। তদন্তে একাধিক মেডিক্যাল পড়ুয়ার নাম এবং কয়েকজন ছাত্রনেতার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ফলে তিন ব্লাড ব্যাঙ্কের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি গোটা রক্ত-দুর্নীতি তদন্তও এখন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
