নিউজপোল ব্যুরো: ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার রেশ এখনও কাটেনি। এবার সেই ঘটনাতেই তদন্ত আরও এক ধাপ এগোল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আগামী মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজির হতে বলেছে কলকাতা পুলিশ। একই ঘটনায় দলের আরও কয়েকজন নেতা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে।
গত ২৭ অগস্ট ৯ ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে বিলবোর্ড খোলার জন্য কলকাতা পুরসভার কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে পৌঁছন। এরপরই অফিস চত্বরে শুরু হয় তুমুল বচসা ও ধস্তাধস্তি। পুলিশ ও পুরকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর একাধিক মামলা দায়ের হয়। তদন্তের সূত্রেই এবার অভিষেক-সহ একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।
অভিষেকের পাশাপাশি তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কেও নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের কেউ থানায় হাজির হননি। অভিষেকের আইনজীবীর তরফে পুলিশের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে ডেরেক ও’ব্রায়েন ইমেল করে হাজিরার জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপও তীব্র হয়েছে। বিজেপির নেতা সুকান্ত মজুমদার তৃণমূল নেতৃত্বকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, আইন নিজের পথে চলবে এবং পুলিশের নোটিসের জবাব আইনের মধ্যেই দিতে হবে। পাল্টা তৃণমূলের বক্তব্য, গোটা ঘটনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় কর্তব্যরত পুলিশ ও সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, মারধর এবং মহিলা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ-সহ একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেও জানা গিয়েছে।
এখন নজর মঙ্গলবারের দিকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থানায় হাজির হন কি না, নাকি ফের সময় চাওয়া হয়—সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড বিতর্ক যে আপাতত থামছে না, এই নোটিসে তা আরও স্পষ্ট হয়ে গেল।
