Agnimitra Pal:থিমে মাতৃপ্রতিমার বিকৃতি নয়, মণ্ডপে আমিষও নয়! দুর্গাপুজোর আগে স্পষ্ট বার্তা অগ্নিমিত্রার!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে এখনও কিছুটা দেরি। তবে তার আগেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে শারদোৎসবের প্রস্তুতি। পুজোর থিম কী হবে, মণ্ডপসজ্জায় কতটা অভিনবত্ব থাকবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চর্চা। এরই মধ্যে থিম-পুজো থেকে মণ্ডপের পবিত্রতা—একাধিক বিষয় নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Pal)।

আরও পড়ুন:Sukanta Majumdar:‘যাঁরা জিততে পারবেন, তাঁরাই টিকিট পাবেন’, পুরভোটে প্রার্থী বাছাই নিয়ে বড় বার্তা সুকান্তর!

রবিবার বার্ণপুরের একটি দুর্গাপুজো কমিটির খুঁটিপুজোয় উপস্থিত ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Pal)। সেখানে নিজের হাতে ঢাক বাজিয়ে পুজোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির সূচনা করেন তিনি। মন্ত্রীর ঢাকের তালে পুজো কমিটির মহিলা সদস্যরাও উৎসবের আনন্দে সামিল হন। খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠান ঘিরে শিল্পাঞ্চলে তৈরি হয় আগাম শারদোৎসবের আবহ।

উৎসবের আবহের মধ্যেই থিম-পুজোর ধরন নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন অগ্নিমিত্রা। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মার্গ দর্শকমণ্ডলীর সদস্য নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে অগ্নিমিত্রা বলেন, থিমের নামে কোনওভাবেই যেন মাতৃপ্রতিমার বিকৃতি না ঘটে। শিল্পের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার প্রতি সম্মান থাকলেও পুজোর ধর্মীয় মর্যাদা, সনাতনী ভাবধারা এবং শালীনতা বজায় রাখা প্রয়োজন বলে বার্তা দেন তিনি।

থিমের অভিনবত্বের নামে চটি, জুতো কিংবা ডিমের মতো উপকরণ দিয়ে মণ্ডপসজ্জা নিয়েও আপত্তির কথা জানান পুরমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, থিমের প্রতিযোগিতায় পুজোর মূল ভাবনা এবং মাতৃপ্রতিমার মর্যাদা যেন কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়। বরং মাতৃপ্রতিমার মাতৃত্ব, সৌন্দর্য ও মহিমাকে যথাযথ মর্যাদায় তুলে ধরাই হওয়া উচিত শিল্পভাবনার মূল উদ্দেশ্য।

দুর্গাপুজোর মণ্ডপে আমিষ খাবার নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়েও এ দিন মুখ খোলেন অগ্নিমিত্রা। তিনি স্পষ্ট করে দেন, বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে সরকার কোনও ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে না। তবে পুজোমণ্ডপের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে মণ্ডপের ভিতরে আমিষ খাবার নিয়ে প্রবেশ না করার জন্য সকলের কাছে আবেদন জানান তিনি। মণ্ডপের বাইরে ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কোনও আপত্তি না থাকলেও পুজোর মূল পরিসরের পবিত্রতা বজায় রাখা প্রত্যেকের দায়িত্ব বলেই জানান পুরমন্ত্রী।

দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদান দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও এ দিন প্রশ্ন ওঠে। অগ্নিমিত্রা জানান, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের তরফে যে নির্দেশ দেওয়া হবে, সেটিই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। উপস্থিত পুজো উদ্যোক্তারাও সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বলে জানান।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

দুর্গাপুজোর আয়োজনের পাশাপাশি আসানসোলের নাগরিক পরিষেবা নিয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। শহরের রাস্তা সংস্কার, উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা এবং পানীয় জলের মতো মৌলিক পরিষেবাগুলিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উন্নত করার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে আসানসোলকে আরও সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানান অগ্নিমিত্রা। ফলে খুঁটিপুজোর মঞ্চ থেকেই একদিকে যেমন থিম-পুজোয় সংযম ও মাতৃপ্রতিমার মর্যাদা রক্ষার বার্তা দিলেন তিনি, তেমনই মণ্ডপের পবিত্রতা এবং শহরের নাগরিক পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন।