নিউজ পোল ব্যুরো:হাতে সময় খুব বেশি নেই। তার মধ্যেই কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম দখলের লক্ষ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে গতি বাড়াচ্ছে বিজেপি। পুরভোটে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও যে দল কোনও ধরনের ‘ছুঁতমার্গ’ রাখতে চাইছে না, রবিবার তা স্পষ্ট করে দিলেন কলকাতা পুরভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা তথা দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)।
আরও পড়ুন:Emraan Hashmi:‘আওয়ারাপন ২’-এর ১০০ কোটির উল্লাসের মাঝেই বিপত্তি, সোয়াইন ফ্লুতে কাবু ইমরান হাশমি!
সুকান্তর কথায়, পুরভোটে টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে কে কতদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত, কিংবা কে সাংগঠনিকভাবে কতটা দক্ষ—তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “যাঁরা ভোটে জিততে পারবে, তাঁরাই টিকিট পাবে। সেক্ষেত্রে তাঁদের জনপ্রিয়তা, পরিচিতি, কাজকর্ম সব খতিয়ে দেখা হবে।”
দুর্গাপুজো মিটলেই কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা। ইতিমধ্যেই দুই পুরনিগমের জন্য নির্বাচনী ইনচার্জ নিয়োগ করেছে বিজেপি। কলকাতার দায়িত্বে রয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। অন্যদিকে, হাওড়া পুরভোটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহাকে। ফলে পুরভোটের প্রস্তুতিতে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে পড়েছে গেরুয়া শিবির। চলছে ধারাবাহিক বৈঠক, সভা এবং জনসংযোগ।
রবিবার কলকাতা পুরভোটের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সুকান্ত। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলের পুরনো কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে কি না, সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কে দলের সঙ্গে কতদিন ধরে যুক্ত, কে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ, সেসব এখানে বিচার্য নয়। সেটা সংগঠনের কোনও পদের ক্ষেত্রে বিবেচ্য। ভোটের জন্য দেখা হবে একটাই বিষয়। যিনি জিততে পারবেন, তিনিই টিকিট পাবেন।”
অর্থাৎ, পুরভোটের প্রার্থী নির্বাচনে স্থানীয় জনপ্রিয়তা, পরিচিতি এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মতো বিষয়গুলিকেই গুরুত্ব দিতে চাইছে বিজেপি। কোনও নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে একজন সম্ভাব্য প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা কতটা, এলাকায় তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কেমন, তাঁর কাজকর্মের প্রভাব কতটা—সবদিক খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সুকান্ত।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি ‘নব্য বিজেপি’দেরও পুরভোটে টিকিট পাওয়ার রাস্তা খুলে যাচ্ছে? যদিও এই বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই জানিয়েছেন সুকান্ত। ‘নব্য বিজেপি’ বলতে কাদের বোঝানো হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) বলেন, “সেসব কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আর নব্য বিজেপি কারা? কাউকে তো বিজেপি যোগদান করায়নি। কেউ যদি নিজেকে এখন বিজেপি নেতা মনে করে, তাহলে তো কিছু করার নেই।”
সব মিলিয়ে কলকাতা পুরভোটকে সামনে রেখে বিজেপির প্রার্থী বাছাইয়ের কৌশল যে অনেকটাই ‘জয়ের সম্ভাবনা’ নির্ভর হতে চলেছে, সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্যে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা ও ভোটে জেতার ক্ষমতাই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
