নিউজ পোল ব্যুরো:ক্যামাক স্ট্রিট-কাণ্ডের তদন্তে তৃণমূলের আরও এক শীর্ষ নেতার কাছে পৌঁছল পুলিশের হাজিরার নোটিস। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের (Derek O’Brien) প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের বাড়িতেও হাজিরার নোটিস দিল শেকসপিয়ার সরণি থানার পুলিশ। সোমবার দুপুর ১২টায় তাঁকে থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, রবিবারও ডেরেক ও’ব্রায়েনের (Derek O’Brien) বাড়িতে নোটিস দিতে গিয়েছিল পুলিশ। তবে সে সময় নোটিস গ্রহণের বিষয়ে নিরাপত্তারক্ষীর কাছে কোনও নির্দেশ না থাকায় তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে সাংসদের সঙ্গে কথা বলে তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী পুলিশের দেওয়া নোটিসে সই করে সেটি গ্রহণ করেন। রবিবার নোটিস দিতে যাওয়ার সময় বাড়িতে ছিলেন না ডেরেক। তিনি কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে নিরাপত্তারক্ষীও কোনও তথ্য দিতে পারেননি। ওই বাড়িতেই পরিবারের সঙ্গে থাকেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ।
পুলিশি নোটিসে ডেরেককে তলবের কারণও উল্লেখ করা হয়েছে। গত ২৭ অগস্ট ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে পুরসভার হোর্ডিং ও ব্যানার সরানোকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেই ঘটনায় ডেরেকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশ এবং পুরপ্রতিনিধিদের কাজে বাধা দেওয়া, ধাক্কাধাক্কি-সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। ঘটনার সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক লাইভ সম্প্রচার হয়েছিল। সেই সমস্ত ভিডিও ফুটেজও তদন্তের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ অগস্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে পুরসভার হোর্ডিং ও ব্যানার অপসারণকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, কোনও আগাম লিখিত নোটিস কিংবা বৈধ নির্দেশের কপি না দেখিয়েই পুরসভার তরফে হোর্ডিং-ব্যানার সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, সংশ্লিষ্ট অফিস চত্বরে একাধিক বেআইনি ব্যানার ও বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং মজুত করা ছিল। পুলিশের উপস্থিতিতেই পুরসভার কর্মীরা গ্যাস কাটার-সহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ছাদে উঠে হোর্ডিং খোলার কাজ শুরু করেন। সেই সময় পুলিশকর্মীদের সঙ্গে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ডেরেক ও’ব্রায়েনও।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
এই ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও হাজিরার নোটিস পৌঁছেছে। শনিবার রাতে কালীঘাটের বাড়িতে নোটিস দিতে যায় শেকসপিয়ার সরণি থানার পুলিশ। সঙ্গে ছিল কালীঘাট থানার পুলিশও। পরিবারের তরফে সেই নোটিস গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শেকসপিয়ার সরণি থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে অভিষেককে। এবার একই ঘটনায় ডেরেক ও’ব্রায়েনকেও সোমবার দুপুর ১২টায় থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হল।
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কার্যালয়কে ঘিরে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতাও ক্রমশ বাড়ছে। আদালতের নির্দেশ কিংবা মালিকপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সম্পত্তির একাংশ দখল করে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে। সম্পত্তির মালিকপক্ষের তরফে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ফলে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনা নিয়ে পুলিশের তদন্ত, অভিষেক ও ডেরেককে হাজিরার নোটিস এবং রাজনৈতিক কার্যালয় ঘিরে সম্পত্তি-বিতর্ক—সব মিলিয়ে আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
