নিউজপোল ব্যুরো: যেখানে দিনের পর দিন শুধু নিখোঁজদের তালিকা বাড়ছিল, সেখানেই আচমকা মিলল স্বস্তির খবর। ভয়াবহ হড়পা বানের ন’দিন পর সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার হলেন দুই কর্মী। নেপালের ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় কার্যত অবাক উদ্ধারকারী দলও। দীর্ঘ সময় ধরে কাদা, জল আর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে থাকার পর শেষ পর্যন্ত তাঁদের জীবিত অবস্থায় বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।
নেপাল সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেট জানিয়েছেন, রাসুয়ার ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ হড়পা বান নামার সময় ওই দুই কর্মী সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে পড়েন। সেনা ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দলের যৌথ অভিযানে তাঁদের খুঁজে বের করা হয়। প্রথম কর্মীকে উদ্ধারের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই দ্বিতীয় কর্মীকেও জীবিত উদ্ধারের খবর সামনে আসে। নেপালি জনপ্রতিনিধি শ্রী রাম নিউপানে সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্বিতীয় উদ্ধারের বিষয়টি জানান।
উদ্ধার হওয়া দুই কর্মীর নাম সঞ্জয় শাহ ও কবির মহারজন। তাঁদের মধ্যে একজন মেকানিক্যাল ফোরম্যান এবং অন্যজন মেকানিক্যাল সুপারভাইজার বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধারের পর দু’জনকেই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গিয়েছে, কাদায় পুরো শরীর মাখা এক কর্মীকে উদ্ধারকারী কাঁধে করে বাইরে নিয়ে আসছেন। সেই দৃশ্যই এখন আশার ছবি হয়ে উঠেছে।
তবে বিপদের পুরোপুরি অবসান হয়নি। নেপালের ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশূলী ৩এ প্রকল্পে কর্মরত ৫৫৭ জন শ্রমিক এখনও নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১১৫ জন মূল সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাই দুই কর্মীর জীবিত উদ্ধারের পর উদ্ধারকারী দল আরও জোরদার করেছে তল্লাশি। তাঁদের ধারণা, সুড়ঙ্গের ভিতরে এখনও কেউ জীবিত থাকতে পারেন। ফলে অন্ধকার সুড়ঙ্গে এখন প্রতিটি মুহূর্তেই নতুন আশার খোঁজ চলছে। ন’দিন পর দু’জনের ফিরে আসা যেন সেই আশাকেই আরও শক্ত করে দিল।
