নিউজপোল ব্যুরো: বিকেলের সাঁতারের ব্যাচ, সবকিছুই চলছিল স্বাভাবিক নিয়মে। আচমকাই পুল থেকে এক কিশোরকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার ঘিরে ছড়িয়ে পড়ল চাঞ্চল্য। ঢাকুরিয়ার একটি সুইমিং ক্লাবে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে একাদশ শ্রেণির ছাত্র সরিপ ঘোষের। বয়স মাত্র ১৬। শুক্রবার বিকেল ৪টের ব্যাচে সাঁতার শেখার জন্য ক্লাবে এসেছিল সে। কিছুক্ষণ পরেই পুলের জলে তাকে নিস্তেজ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
জানা গিয়েছে, বিকেল ৪টে ৫০ মিনিট নাগাদ সাঁতার কাটতে নামে সরিপ। ব্যাচের অন্যরা একে একে পুল থেকে উঠে এলেও সরিপকে দেখা যাচ্ছিল না। কিছুক্ষণ পর এক মহিলা প্রশিক্ষকের নজরে আসে বিষয়টি। দ্রুত তাকে জল থেকে তুলে প্রাথমিক চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। এরপর তড়িঘড়ি একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠছে সুইমিং ক্লাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। প্রশিক্ষক সুবর্ণ গোস্বামীর দাবি, ক্লাবের প্রায় ৭৫ ফুটের পুলটি সাধারণত পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা করে ব্যবহার করা হয়। মাঝখানে ব্যারিকেডও থাকে। তবে শুক্রবার সেই ব্যারিকেড সরানো হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরিপ দু’রাউন্ড সাঁতারও কেটেছিল। পরে মহিলাদের ব্যবহারের দিক থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
কীভাবে এত অল্প বয়সের একজন প্রশিক্ষণরত ছাত্র জলের তলায় চলে গেল, তখন প্রশিক্ষক বা কর্তৃপক্ষের নজর কোথায় ছিল—এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে। ক্লাবের কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে লেক থানার পুলিশ। পুলে নজরদারি, প্রশিক্ষকের উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা—সব দিকই তদন্তের আওতায় রয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কিছুদিন আগেই চেতলার একটি সুইমিং পুলেও একই ধরনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। পরপর এমন ঘটনায় কলকাতার সুইমিং ক্লাবগুলিতে প্রশিক্ষণের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কড়া, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
