ভাইভা পরীক্ষার আড়ালে শিক্ষকের চরম কামলীলা! JNU-এর ক্যাম্পাসের সরকারি ফ্ল্যাটে ১০ ছাত্রীকে পৈশাচিক যৌন হেনস্থার বিস্ফোরক মামলা

breakingnews অপরাধ আইন দেশ রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (JNU) শিক্ষকতার পবিত্র পেশায় চরম কালিমালিপ্ত করে সামনে এল এক শিহরিত করার মতো কাণ্ড। বিদ্যাচর্চার আড়ালে এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১০ জন তরুণী ছাত্রীকে যৌন হেনস্থা ও চরম অশালীন আচরণের বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে এখন উত্তাল দেশের রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষামহল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের নিজস্ব ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে গিয়ে অসভ্য আচরণ করা থেকে শুরু করে ক্লাস চলাকালীন ও মৌখিক পরীক্ষার আড়ালে ক্রমাগত কুরুচিকর যৌন ইঙ্গিত দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনা জানাজানি হতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ যৌন হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ক কমিটি বা ‘ইন্টারনাল কমপ্লেন্টস কমিটি’ (ICC)-র কাছে লিখিত নালিশ জমা পড়েছে।

তদন্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। সে সময় পরীক্ষা ও ভাইভা চলাকালীন এক তরুণী ছাত্রী ওই শিক্ষকের কুরুচিকর ও লালসাপূর্ণ আচরণের শিকার হন। পরবর্তীতে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে সহপাঠীদের নিজস্ব একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নিজের সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা প্রথম শেয়ার করেন ওই নির্যাতিতা। এর পরেই ভাঙতে শুরু করে একের পর এক বাধার প্রাচীর। অন্য ছাত্রীরাও সাহস সঞ্চয় করে একে একে এগিয়ে আসেন এবং নিজেদের গোপন নির্যাতনের কথা স্বীকার করেন। জানা যায়, নির্দিষ্ট এক ছাত্রীকে নয়, বরং বেশ কিছু দিন ধরেই ক্লাসের ভেতরে এবং ব্যক্তিগত ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠিয়ে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে এমন অভব্য আচরণ করে আসছিলেন ওই অভিযুক্ত শিক্ষক।

প্রথমদিকে মাত্র একটি অভিযোগ জমা পড়লেও বর্তমানে নির্যাতিতা ছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১০ ছুঁয়েছে। আইসিসি-র তরফে লিখিত এই সব গণ-অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু করা হলেও অদ্ভুত নীরবতা বজায় রেখেছে জেএনইউ কর্তৃপক্ষ ও উপাচার্যের দফতর। এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা কোনো ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে এই নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, যার ফলে ক্যাম্পাসের অন্দরে চাপা ক্ষোভ ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

তবে জেএনইউ-এর বুকে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় এটি প্রথম ঘটনা নয়। দেশের অন্যতম শীর্ষ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বেও একাধিকবার এমন কালিমা লেগেছে। গত বছর এপ্রিল মাসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী সংস্থা ‘এগজিকিউটিভ কাউন্সিল’ চারজন কর্মীকে বরখাস্তের চরম শাস্তি দিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিভাগের (International Studies) এক অধ্যাপকও ছিলেন, যাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি জাপানি দূতাবাসের এক মহিলা আধিকারিককে যৌন হেনস্থা করার অকাট্য তথ্য সামনে এসেছিল। বারবার একই ধরনের কেলেঙ্কারি সামনে আসায় জেএনইউ-এর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং শিক্ষক নির্বাচনের মানদণ্ড নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন উঠে গেল।