সময় বদলেছে, ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে—তবু বদলায়নি সেই প্রশ্ন! দুই বছর পরও আরজি করের অন্ধকারের নেপথ্যে কি ‘ভাইপো গ্যাং’-এর ছায়া?

breakingnews অপরাধ আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: দুই বছর পেরিয়েও আরজি করের সেই ভয়াবহ রাতের বহু প্রশ্নের যেন শেষ নেই! আদালতে একের পর এক স্ট্যাটাস রিপোর্ট, তদন্তে নতুন SIT, নথি থেকে CCTV—সবই খতিয়ে দেখার কথা জানাচ্ছে CBI। কিন্তু অভয়ার পরিবারের প্রশ্ন একটাই—যাঁদের ভূমিকা নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহের কথা বলা হচ্ছে, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত কোথায়? শিয়ালদা আদালতে CBI-এর নতুন স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা পড়তেই ফের সামনে এল এই প্রশ্ন।

২০২৪ সালের আগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর তদন্ত যায় CBI-এর হাতে। মূল ঘটনায় সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে গিয়ে আদালতে সাজাও হয়েছে। কিন্তু পরিবারের দাবি, ঘটনার পিছনে আরও কারও ভূমিকা ছিল কি না, সেই প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর এখনও মেলেনি।

মঙ্গলবার শিয়ালদা আদালতে CBI-এর ১৩তম স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা পড়ে। তদন্তকারী সংস্থার তরফে আদালতকে জানানো হয়েছে, মেডিক্যাল রিপোর্ট, ফরেন্সিক নথি এবং CCTV ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়েছে। পাশাপাশি CBI-এর বিশেষ তদন্তকারী দল অভয়ার দেহ যে শ্মশানে শেষকৃত্য হয়েছিল, সেখানেও গিয়ে অনুসন্ধান করেছে। সেই অনুসন্ধান থেকে পাওয়া তথ্যও রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তবে রিপোর্ট জমা পড়ার পরেই ক্ষোভ প্রকাশ করে অভয়ার পরিবার। পরিবারের বক্তব্য, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই জানতে চাইছেন—ঘটনার সঙ্গে আর কারা যুক্ত থাকতে পারেন, তাঁদের ভূমিকা কী ছিল এবং কেন তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত এগোচ্ছে না? পরিবারের আইনজীবীর বক্তব্য, প্রকৃত অভিযুক্তদের তদন্তের বাইরে রেখে কীভাবে তদন্ত এগোচ্ছে, সেটিই তাঁদের কাছে বড় প্রশ্ন।

অভয়ার বাবার অভিযোগ, CBI এবং আদালত মূল অভিযুক্তদের বিষয়ে অবগত—তাহলে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদের পরিধি এত সীমিত কেন? তাঁর দাবি, বাকি ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেও তাঁরা স্পষ্ট উত্তর পাচ্ছেন না। তবে এগুলি পরিবারের অভিযোগ ও প্রশ্ন; আদালত বা CBI-এর রিপোর্টে প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হয়নি।

এর মধ্যেই তদন্তের গতি নিয়েও আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। আগস্টে কলকাতা হাইকোর্ট CBI-এর তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নতুন করে তদন্তের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিল এবং তদন্ত দ্রুত শেষ করার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিল।