নিউজপোল ব্যুরো: ‘দপ্তর খালি করুন’—দমকলের সেই নোটিস ঘিরে যখন ক্যামাক স্ট্রিটে উত্তাপ চরমে, তখনই আদালতের নির্দেশে বদলে গেল ছবিটা! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তর থাকা ক্যামাক স্ট্রিটের ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলা খালি করার জন্য ৪ সেপ্টেম্বর যে নোটিস দিয়েছিল দমকল, তা আপাতত খারিজ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। কালীঘাট তৃণমূলের আবেদনের ভিত্তিতেই এই নির্দেশ।
বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের নির্দেশ, বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। তৃণমূলের তরফে গত ৩ সেপ্টেম্বর যে জবাব দেওয়া হয়েছিল, তা ফের খতিয়ে দেখতে হবে দমকলকে। এরপর সংশ্লিষ্ট জায়গায় নতুন করে পরিদর্শন করতে হবে। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে কোনও ঘাটতি রয়েছে বলে ফের মনে হলে, আইন মেনে নতুন করে নোটিস দিতে পারবে দমকল। অর্থাৎ আপাতত স্বস্তি মিললেও আগুন-নিরাপত্তার প্রশ্নটি এখনও পুরোপুরি মেটেনি। ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের ওই বহুতলে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে যায় দমকল। পরিদর্শনের পর সপ্তম ও অষ্টম তলায় বেশ কিছু অগ্নিসুরক্ষা সংক্রান্ত ঘাটতির কথা জানানো হয়। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর ভবনের মালিকপক্ষকে নোটিস দিয়ে ওই অংশ খালি করার কথা বলা হয়। সেই নির্দেশের জেরেই অভিষেকের দপ্তর খালি করার বিষয়টি সামনে আসে।
দমকলের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের অগ্নিনিরাপত্তা শংসাপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। পরিদর্শনে সপ্তম তলার ক্যাফেটেরিয়া এলাকায় একাধিক LPG সিলিন্ডার রাখার বিষয়টিও উঠে আসে। পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কয়েকটি অংশ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ত্রুটি ইতিমধ্যেই মেরামত বা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টে যায় কালীঘাট তৃণমূল। আদালতে তৃণমূলের আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু বিষয় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্ন তোলা হয়, ভবনের অন্য অংশের বদলে নির্দিষ্ট দুই তলাকেই কেন নিরাপত্তার দিক থেকে সমস্যাযুক্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এরই মধ্যে আদালতের নতুন নির্দেশে আপাতত দমকলের পুরনো নোটিস কার্যকর হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে পরিদর্শনে যদি অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলে, তাহলে দমকল ফের আইনি পদক্ষেপ করতে পারবে। ফলে ক্যামাক স্ট্রিটে আপাতত ‘খালি করার নোটিসে ব্রেক’, কিন্তু অগ্নিনিরাপত্তার পরীক্ষা এখনও বাকি!
