নিউজ পোল ব্যুরো: দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা নতুন মাত্রায় উত্তেজনা বাড়িয়েছে ভারতের পূর্ব সীমান্তে। বিশেষ করে বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনৈতিক পরিবর্তন, পাকিস্তানের সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা এবং উত্তর–পূর্বাঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব এসব মিলিয়ে ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি (Siliguri) করিডোরের নিরাপত্তা আজ আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই শিলিগুড়িতে (Siliguri) বসেছে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক, যেখানে সীমান্ত পরিস্থিতিকে ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কৃষ্ণনগরের BLO-র মৃত্যু: ‘আর কত প্রাণ গেলে…’, নির্বাচন কমিশনকে কড়া বার্তা মমতার
বাংলাদেশে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) সরকারের পতনের পর থেকেই সীমান্ত এলাকায় বাড়তি তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ, চোরাচালান বা উস্কানিমূলক কার্যকলাপ ঠেকাতে ভারতীয় সেনা ও আধাসেনা বাহিনী কড়া নজরদারিতে রয়েছে। একই সময়ে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যাচ্ছে, লস্কর-ই-তৈবা প্রধান হাফিজ সইদ বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে নতুন সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। তার ঘনিষ্ঠ এক সহযোগীকে নাকি ওই কাজে পাঠানো হয়েছে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
এই প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের অত্যন্ত কৌশলগত শিলিগুড়ি (Siliguri) করিডোর যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া শুরু হয়েছে। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে এসআইবি দপ্তরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে উচ্চপদস্থ বৈঠক। সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা, এসএসবি, মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স, রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা ছাড়াও উপস্থিত রয়েছেন উত্তরবঙ্গের আইজি রাজেশ যাদব, শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর, উত্তর–পূর্ব সীমান্ত রেলের প্রতিনিধিরা এবং ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ।
এদিকে নেপালে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেওয়া, পশ্চিমবঙ্গের এসআইএর পরিবেশ ঘিরে সতর্কতা এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকারের কিছু মন্তব্য সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গোয়েন্দা দপ্তরের ধারণা, শিলিগুড়ি করিডোর ব্যবহার করে মাদক, জাল নোট এবং অন্যান্য চোরাচালানের প্রচেষ্টা বাড়তে পারে।
এছাড়া পাকিস্তানের (Pakistan) প্রতি বাংলাদেশের নতুন সরকারের অনুকূল অবস্থানও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ঢাকায় পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জার সঙ্গে সাক্ষাতে ইউনুস যে একটি বিতর্কিত মানচিত্র উপহার দিয়েছেন যেখানে অসমসহ ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের কিছু অংশকে বাংলাদেশ হিসেবে দেখানো হয়েছে তা কূটনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএসএফ, সিআরপিএফ, আইটিবিপি, এসএসবি, সিআইএসএফ-সহ বিভিন্ন আধাসেনা বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসিমারা ও বাগডোগরার বিমানঘাঁটিকেও বাড়তি সতর্কতায় রাখা হয়েছে। সিকিম সীমান্ত এবং বাংলাদেশ সীমান্তে মোতায়েন ত্রিশক্তি কোরকে অ্যালার্ট করা হয়েছে; পাহাড়ি অঞ্চলগুলিতে ড্রোন নজরদারিও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ধুবড়ির বামুনি, কিষণগঞ্জ এবং চাপড়া এলাকায় তিনটি নতুন সামরিক ঘাঁটি তৈরির কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
