নিউজ পোল ব্যুরো: এসআইআর কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই বাংলায় একের পর এক উদ্বেগজনক ঘটনার খবর সামনে আসছে। কাজের অতিরিক্ত চাপ ও প্রশাসনিক নির্দেশ পালনের বোঝায় বহু বিএলও শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এই পরিস্থিতিতেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি এই প্রসঙ্গে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনারকে চিঠিও দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এই আবহে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের খান সাহেব পাড়া বুথে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও অঞ্জুওয়ারা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁর পরিবর্তে দায়িত্ব পালন করছে তাঁর নাবালক ছেলে আরিফ রহমান। গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, আরিফ বয়সে মাত্র ১৭ বছর হলেও তিনি এসআইআর ফর্ম গ্রহণ ও যাচাইয়ের কাজ করছেন এবং এমনকি মায়ের হয়ে বিএলও-এর স্বাক্ষরও দিচ্ছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি দায়িত্বে এমন অনিয়ম মানতে নারাজ তারা এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওই নাবালক তরুণের মন্তব্য আরও বিতর্ক তৈরি করেছে। তার কথায়, “ফর্ম জমা দিলে দেবে, না দিলে না দেবে।” বাসিন্দাদের একাংশ জানান, ফোন করে ফর্ম জমা দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলে বিএলও-র বদলে তাঁর ছেলেই ফোন ধরে এবং জানায়, মা অসুস্থ হওয়ায় তাকেই ফর্ম দিতে হবে। এদিকে, শনিবার সকালে আরও এক মর্মান্তিক ঘটনায় এক মহিলা বিএলও-র দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়ি থেকে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে, যেখানে ওই মহিলা নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপের জন্যই এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, অসহনীয় কাজের চাপ ও মানসিক নিপীড়নের কারণেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের অভিযোগ, কমিশনের জটিল ডিজিটাল প্রক্রিয়া, অযৌক্তিক সময়সীমা ও লাগাতার নজরদারির ফলে কর্মীদের উপর ভয়াবহ মানসিক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে প্রশ্ন তুলেছেন, “এসআইআরের চাপে এভাবে আর কত প্রাণ ঝরবে? আর কত মৃতদেহ দেখতে হবে? বিষয়টি এখন অত্যন্ত গুরুতর হয়ে উঠছে।” গ্রামবাসীদের একটাই দাবি, অসুস্থ বিএলও-দের পরিবর্তে অবিলম্বে নতুন ও যোগ্য কর্মী নিয়োগ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হোক এবং সমগ্র ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হোক।
