কৃষ্ণনগরের BLO-র মৃত্যু: ‘আর কত প্রাণ গেলে…’, নির্বাচন কমিশনকে কড়া বার্তা মমতার

breakingnews কলকাতা রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: দীর্ঘদিন ধরে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত কাজ নিয়ে যে অসন্তোষ ও চাপ জমে উঠছিল, তা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির পর আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) তরফে নির্দিষ্ট সময়সীমার আগেই কাজ শেষ করার জন্য নিয়মিত তাগাদা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ বহু বিএলও-র (BLO)। অথচ মাঠে কাজ করতে গিয়ে তারা বারবার পরিকাঠামোগত ঘাটতির মুখোমুখি হচ্ছেন অপ্রতুল ডিজিটাল সাপোর্ট, নেটওয়ার্কের সমস্যা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব, এবং বিশাল এলাকার দায়িত্ব সামলানোর মতো নানা অসুবিধা। ফলে কম সময়ে বিপুল কাজের চাপ সামলানো তাদের কাছে প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: China: ভারত-পাক যুদ্ধেই পরীক্ষা হল চীনের আধুনিক অস্ত্র, ফলাফল হতাশাজনক

এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যেই কয়েকজন বিএলও (BLO) মানসিক চাপে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠছে। কিছু ক্ষেত্রে সুইসাইড নোটে তারা কাজের চাপ ও অপারাগত সমস্যার কথাও উল্লেখ করেছেন। এমন একাধিক ঘটনার পর রাজ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

শনিবার এক্স-এ দেওয়া পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন,“এসআইআরের (SIR) বোঝা বইতে গিয়েই আর কতজন কর্মীকে প্রাণ দিতে হবে? কত মৃত্যু হলে নির্বাচন কমিশন বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে?” তার মতে, এই সমস্যা এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এক ভয়াবহ প্রশাসনিক জটিলতা, যা সমাধানের জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ প্রয়োজন।

মুখ্যমন্ত্রী তার পোস্টে কৃষ্ণনগরের (Krishnanagar) চাপড়ার ২০১ নম্বর বুথের বিএলও (BLO) এবং পার্শ্বশিক্ষিকা রিঙ্কু তরফদারের মৃত্যুকেও তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “রিঙ্কু তরফদারের প্রয়াণের খবর অত্যন্ত মর্মান্তিক। সুইসাইড নোটে তিনি স্পষ্টভাবে এসআইআর কাজের অতিরিক্ত চাপের কথা উল্লেখ করেছেন।” মমতার দাবি, এরকম ঘটনা প্রমাণ করে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিত কাজের ধরণ ও সময়সীমা মানবিক সীমারেখাকে উপেক্ষা করছে।

তার বক্তব্য, ভোট প্রস্তুতি বা সংশ্লিষ্ট কাজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সীমাবদ্ধতা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং কাজের বাস্তব পরিস্থিতিকে অবহেলা করলে এমন দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তিনি কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছেন, কাজের গতি বাড়ানোর নামে যেন কোনও কর্মীর জীবন বিপন্ন না হয়, এবং অবিলম্বে এই ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। এসআইআর সংক্রান্ত কাজ নিয়ে চাপ, অসন্তোষ এবং বারবার ঘটতে থাকা এই ধরনের মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে; আর সেই প্রেক্ষিতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই তীব্র প্রতিক্রিয়া নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole