নিউজপোল ব্যুরো: মাঠে ঘাম ঝরিয়ে বাংলার নাম উজ্জ্বল করেছিলেন, দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও লড়েছিলেন—এবার সেই প্রাক্তন ক্রীড়াবিদদের জন্য এল বড় স্বস্তির খবর। দীর্ঘদিনের ঘোষণা এবার পৌঁছল সরকারি বিজ্ঞপ্তির পর্যায়ে। ‘মুখ্যমন্ত্রী কৃতি ক্রীড়াবিদ সম্মান যোজনা’-র মাধ্যমে যোগ্য প্রবীণ ক্রীড়াবিদদের প্রতি মাসে ₹১০,০০০ করে সাম্মানিক দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের কথা বাজেটেই সামনে এসেছিল। এবার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ফলে পরিষ্কার হল কারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন এবং কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে। অর্থাৎ শুধু প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ হলেই হবে না, সম্মানিক পেতে হলে নির্দিষ্ট যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করতে হবে। প্রথম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল বয়স। আবেদন করার সময় ক্রীড়াবিদের বয়স কমপক্ষে ৪০ বছর হতে হবে এবং তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় বাংলার হয়ে সাফল্যের প্রমাণও প্রয়োজন। ন্যাশনাল গেমস বা সমতুল্য কোনও প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করে পদক জেতা থাকতে হবে।
অলিম্পিক, ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ, কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়ান গেমস অথবা প্যারা স্পোর্টসের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করা ক্রীড়াবিদরাও এই সম্মানিকের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। ফলে একদিকে বাংলার হয়ে জাতীয় সাফল্য, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব—দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারী বর্তমানে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের সক্রিয় কর্মী হলে এই মাসিক সাম্মানিক পাবেন না। ব্যাঙ্ক, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বা PSU-তে কর্মরত থাকলেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ বর্তমানে স্থায়ী সরকারি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে থাকা ব্যক্তিদের এই প্রকল্পের আওতায় রাখা হয়নি।
আবেদনের প্রক্রিয়াও বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। নিজের জেলার বাসিন্দাদের সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকের কাছে আবেদন করতে হবে। কলকাতার ক্ষেত্রে আবেদন জমা দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে যুগ্ম সচিবের দফতরে। যোগ্যতা যাচাইয়ের পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কমিটিতে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (SAI)-এর আঞ্চলিক ডিরেক্টর, ক্রীড়া দফতরের আধিকারিক এবং কয়েকজন বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে রাখা হয়েছে। সমস্ত শর্ত পূরণ এবং যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে ক্রীড়া দফতরের মাধ্যমে মাসিক ₹১০,০০০ সম্মানিক দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ মাঠের সাফল্যের স্বীকৃতি এবার অবসরের পরেও ধরে রাখার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার।
