প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা, ED-র অভিযোগে নড়েচড়ে বসল কলকাতা পুলিশ

breakingnews অপরাধ আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: একদিকে জেল, অন্যদিকে নতুন FIR—জমি দখল ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে এবার আরও এক ধাপ এগোল কলকাতা পুলিশ! প্রাক্তন পুলিশকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ED-র লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই গড়িয়াহাট থানায় এই মামলা রুজু হয়েছে। একই অভিযোগে ব্যবসায়ী জয় এস কামদার এবং সোনা পাপ্পুর নামও রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

ঘটনার সূত্রপাত অবশ্য আরও আগে। জমি দখল এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম সামনে আসে ED-র তদন্তে। এপ্রিল মাসে তাঁর বাড়ি ও তাঁর সঙ্গে যুক্ত একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। একই সময়ে ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতেও তল্লাশি হয়। এরপর মে মাসে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে ED। ১৪ মে তাঁকে গ্রেফতার করার আগে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল বলে রিপোর্টে উঠে আসে। একাধিকবার তলবের পর তিনি ED-র দফতরে হাজির হয়েছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদের পরই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

তদন্ত এখানেই থামেনি। জুলাই মাসে জমি দখলের মামলায় শান্তনুর বিরুদ্ধে একটি সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটও জমা করে ED। সেখানে তদন্তকারী সংস্থার তরফে তাঁর বিরুদ্ধে জমি দখল এবং আর্থিক অনিয়মে যুক্ত থাকার অভিযোগ তোলা হয়। ED-র দাবি, শান্তনু, জয় কামদার এবং সোনা পাপ্পুর মধ্যে যোগসূত্র ছিল এবং পুলিশি প্রভাব ব্যবহার করে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগগুলি তদন্তকারী সংস্থার দাবি; আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে। এবার সেই তদন্তের সূত্র ধরেই কলকাতা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে ED। অভিযোগে বলা হয়েছে, সরকারি পদে থাকার সময়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গড়িয়াহাট থানায় Prevention of Corruption Act-এর ধারায় FIR দায়ের হয়েছে বলে খবর।

ED এবং কলকাতা পুলিশের মধ্যে বৈঠকের পর একাধিক নির্দিষ্ট মামলা নিয়ে সমন্বয় করে এগোনোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। তার পরেই এই মামলা দায়ের হওয়ায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়ল। একই ঘটনায় শান্তনুর দুই ছেলের নামও অভিযোগে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।