নিউজপোল ব্যুরো: এক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা, তারপর সেই টাকার গতিপথ পৌঁছে গেল অন্য এক সংস্থার ব্যাঙ্ক খাতায়! বাগুইআটি-কেষ্টপুরের কথিত তোলাবাজির টাকা ঘিরে এবার তদন্তে উঠে এল এমনই বিস্ফোরক দাবি। প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বারাসত আদালতে জমা পড়া তৃতীয় চার্জশিটে পুলিশের দাবি, ওই এলাকা থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা তোলাবাজি করা হয়েছিল এবং সেই টাকা জমা পড়েছিল যুব তৃণমূলের একটি নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, এখানেই শেষ নয়। যে অ্যাকাউন্টে ওই টাকা জমা পড়েছিল, তার অন্যতম অথরাইজড সিগনেটারি ছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। ফলে তদন্তকারীদের নজরে এসেছে শুধু টাকা আদায়ের অভিযোগ নয়, সেই টাকা কোথায় জমা পড়ল এবং পরে কোন পথে তা অন্যত্র গেল—সেই গোটা আর্থিক লেনদেনের চিত্রও।
চার্জশিটে পুলিশের দাবি, যুব তৃণমূলের ওই অ্যাকাউন্ট থেকে পরবর্তী সময়ে টাকা অ্যাকাউন্ট-টু-অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফারের মাধ্যমে পৌঁছে যায় ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর অ্যাকাউন্টে। এই দাবিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে। তবে চার্জশিটে থাকা অভিযোগ এখনও আদালতে বিচারাধীন; অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমনটা বলা যাচ্ছে না।দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে তদন্ত অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, তোলাবাজি এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তাঁকে গ্রেফতার করার পর থেকেই তাঁর কথিত আর্থিক লেনদেন ও সম্পত্তির উৎস নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার হয়।
সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টে তৃণমূলের কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলার শুনানিতেও রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল দেবরাজের নাম তুলে দাবি করেন, ওই অ্যাকাউন্টগুলির সঙ্গে তাঁর জমা করা অর্থের যোগ ছিল এবং সেখান থেকে ৩০ কোটি টাকা লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসে স্থানান্তরের দাবি রয়েছে।
