মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে বক্সায় ফিরল বাঘিনির গর্জন! প্রায় তিন দশক পর জঙ্গলে ‘রয়্যাল এন্ট্রি’, ২ মাসে আরও ৩ বাঘ ছাড়ার বড় ঘোষণা

breakingnews oftbeat দেশ প্রযুক্তি

নিউজপোল ব্যুরো: পুজোর মুখে উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে এল একেবারে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন। বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে আনা তিন বছরের রয়্যাল বেঙ্গল বাঘিনিকে শুক্রবার বক্সা টাইগার রিজার্ভের এনক্লোজ়ার থেকে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হল। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম সংগঠিত ব্যাঘ্র পুনঃপ্রবর্তন প্রকল্পের সূচনাও হল এই কর্মসূচির হাত ধরে। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিতিতে বাঘিনিকে মুক্ত করা হয়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু বাঘ ফিরিয়ে আনা নয়, বক্সার পরিবেশ, শিকারের প্রাণীর সংখ্যা এবং জঙ্গল সংলগ্ন করিডরকেও আরও শক্তিশালী করা।

বক্সায় বাঘ ফেরানোর এই উদ্যোগের প্রস্তুতি চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। বাল্মীকি থেকে আনা বাঘিনিকে প্রথমে নির্দিষ্ট সফট এনক্লোজ়ারে রেখে তার গতিবিধি ও শারীরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। রেডিও কলারের মাধ্যমে তার উপর নজরদারিও রাখা হচ্ছে। শুক্রবার তাকে মূল জঙ্গলে ছাড়ার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবে রূপ পেল। আগামী দিনে আরও বাঘ এনে বক্সায় একটি স্থায়ী ব্যাঘ্র জনসংখ্যা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগামী দু’মাসের মধ্যে বক্সার জঙ্গলে আরও তিনটি বাঘ ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ একটি বাঘিনির পর এবার ধাপে ধাপে আরও তিনটি বড় বিড়ালকে এই জঙ্গলে আনার প্রস্তুতি চলছে। পাঁচ বছরের এই প্রকল্পে বাঘের পাশাপাশি তাদের জন্য উপযুক্ত আবাসস্থল, পর্যাপ্ত শিকার এবং নিরাপদ করিডর তৈরির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

এদিন বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের পর্যটন নিয়েও বড় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বক্সা, জয়ন্তী ও ডুয়ার্সকে আরও বড় পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বিশেষ করে পুজোর মরশুমে জঙ্গল ও পাহাড়মুখী পর্যটকদের কাছে বক্সায় বাঘের প্রত্যাবর্তন নতুন আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। জঙ্গলকে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছেন। এর আগে উত্তরবঙ্গ সফরে দুই হস্তিশাবকের নাম দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী—চৈতন্য ও সুলক্ষণা। বনকর্মীদের পরামর্শ এবং শাবকদের বাবা-মায়ের নামের সঙ্গে মিল রেখেই এই নামকরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।