জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে যন্তর মন্তরে ধুন্ধুমার! সৌরভ ভরদ্বাজকে চ্যাংদোলা করে নিয়ে গেল পুলিশ, আটক সিপিএমের সৃজন ভট্টাচার্যও

breakingnews আইন আন্তর্জাতিক দেশ

নিউজপোল ব্যুরো: গান্ধী জয়ন্তীর আবহেই একেবারে রণক্ষেত্রের ভয়াবহ চেহারা নিল রাজধানীর যন্তর মন্তর! প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে রাজপথে নেমে আইসা (AISA), এসএফআই (SFI) ও ডিয়াইএফআই (DYFI)-সহ একাধিক বিরোধী ছাত্র-যুব ও রাজনৈতিক সংগঠন চরম তোলপাড় শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দিল্লি পুলিশ চড়াও হয়। সকাল ৮টা নাগাদ আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ জোরালো স্লোগান তুলে বিক্ষোভে শামিল হতেই তাঁকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চ্যাংদোলা করে শূন্যে তুলে সরাসরি প্রিজন ভ্যানে ভরে দেয়! এই ঘটনার পরপরই দিল্লি পুলিশের সাথে আম আদমি পার্টির কর্মীদের শুরু হয় রক্তক্ষয়ী ধস্তাধস্তি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

ঘটনার পারদ যত চড়েছে, দিল্লি পুলিশের কড়াকড়ি ততই বেলাগাম রূপ নিয়েছে। একে একে আটক করা হয় আপ বিধায়ক সঞ্জীব ঝা এবং সিপিএম নেতা তথা ছাত্র আন্দোলনের সর্বভারতীয় মুখ সৃজন ভট্টাচার্যকে। প্রীতম পুরা থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় ভিডিয়ো বার্তায় হুঁশিয়ারি দিয়ে সৃজন সাফ জানিয়ে দেন, “গোটা দেশে আজ তুলকালাম শুরু হয়ে গিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারকে না সরানো পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না।” পুলিশের তীব্র বাধার মুখোমুখি হন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতশী মার্লেনাও। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫০ জন হেভিওয়েট বিক্ষোভকারী ও ছাত্রনেতাকে তুলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ।

রাজধানীর বিক্ষোভ দমনে নজিরবিহীনভাবে আট-নয়টি বিশেষ সিকিউরিটি জোন তৈরি করে মোতায়েন করা হয়েছে সিআরপিএফ ও উচ্চপদস্থ আইপিএস অফিসারদের। বিক্ষোভ সামলাতে রাজধানীতে আগে থেকেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যন্তর মন্তর ঘিরে ব্যারিকেডের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যও মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতির জেরে দিল্লি মেট্রোর ১১টি স্টেশনে প্রবেশ ও বেরনোর পথ বন্ধ রাখা হয়েছে, যদিও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জ পরিষেবা চালু রয়েছে।