পুজোর মধ্যেই সিপিএমের বুকস্টলে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ! ফুলিয়ায় মনীষীদের ছবি ছেঁড়া থেকে হরিদেবপুরে রাতের ভাঙচুর, উঠছে একাধিক প্রশ্ন! কারা জড়িত?

breakingnews অপরাধ আইন জেলা

নিউজপোল ব্যুরো: দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় সিপিএমের বইয়ের স্টল ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। নদিয়ার ফুলিয়া থেকে কলকাতার হরিদেবপুর, এমনকী যাদবপুরেও বুকস্টল ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। কোথাও স্টলে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর অভিযোগ, কোথাও আবার স্টল সরানো নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিবাদ—সব মিলিয়ে পুজোর মধ্যে নতুন করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

নদিয়ার ফুলিয়ায় রবিবার রঙ্গমঞ্চের কাছে রাস্তার ধারে সিপিএমের পুজোর বুকস্টলে হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, স্টলের ভিতরে থাকা মনীষীদের ছবি ছিঁড়ে দেওয়া হয়। বই রাখার স্ট্যান্ড, কর্মীদের বসার বেঞ্চ-সহ একাধিক জিনিস ভেঙে ফেলা হয়। স্টলে আগুন লাগানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে, কলকাতার হরিদেবপুরের সোদপুর এলাকায় গভীর রাতে সিপিএমের বইয়ের স্টলে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বেহালা পূর্বের বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর শিকদার। ঘটনার প্রতিবাদে হরিদেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় সিপিএম নেতারা।  দলের যাদবপুর এরিয়া কমিটির তরফে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। আগামীকাল বিচারপতি পার্থপ্রতিম রায়ের এজলাসে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।

গত শনিবার সন্ধ্যায় যাদবপুরে বুকস্টল নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সিপিএমের তীব্র বাদানুবাদ হয় বলে অভিযোগ। সেখানে পুরসভার গাড়ির পাশাপাশি বুলডোজারও আনা হয়েছিল। কেন বুকস্টল ভাঙার জন্য বুলডোজার আনা হয়েছিল, সেই প্রশ্ন তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সিপিএম। এই মামলায় রাজ্য সরকারকে আর্থিক জরিমানা করারও আবেদন জানিয়েছে দল। তবে হামলার অভিযোগগুলির সত্যতা, দায়ীদের পরিচয় এবং যাদবপুরের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা—সবই এখন তদন্ত ও আদালতের শুনানির দিকে তাকিয়ে।