নিউজপোল ব্যুরো: অষ্টমীর গভীর রাতে বন্ধ রান্নাঘরে নাকি নিজের হাতে ভোগ রান্না করেন মা দুর্গা! শতাব্দীপ্রাচীন এই লোকবিশ্বাসকে ঘিরেই বিশেষ পরিচিতি ঝাড়গ্রামের চিল্কিগড়ের কনক দুর্গা মন্দিরের। ডুলুং নদীর তীরে জঙ্গলে ঘেরা এই মন্দিরে মহাষ্টমীর বিশেষ রীতি দেখতে প্রতি বছর ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত।
প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরের ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে সামন্ত রাজা গোপীনাথ সিংয়ের সঙ্গে। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, স্বপ্নাদেশ পেয়ে রানির সোনার কাঁকন গলিয়ে তৈরি করা হয়েছিল দেবীর মূর্তি। সেই থেকেই নাম কনক দুর্গা। বর্তমানে মন্দিরে অষ্টধাতুর মূর্তিতে পূজিত হন দেবী। তাঁর রূপও অনন্য—দশভুজা সিংহবাহিনী নয়, তিনি চতুর্ভুজা অশ্বারোহিণী।
মহাষ্টমীর রাতে মন্দিরের পুরোহিত পাঁঠার মাংস মশলা মাখিয়ে শালপাতায় মুড়ে উনুনে তিনটি কাঠের উপর রেখে দেন। বীজমন্ত্র পাঠ করে রান্নাঘরের দরজা বন্ধ করে চাবি তুলে দেওয়া হয় রাজপরিবারের হাতে। পরদিন সকালে দরজা খোলার পর সেই ভোগ দিয়েই শুরু হয় নবমীর পুজো। এই প্রসাদ ‘বিরাম ভোগ’ নামে পরিচিত।
দেবীর নিত্যভোগে থাকে ভাত, ডাল, মাছ ও হাঁসের ডিম। অষ্টমীতে বিশেষ আয়োজন হয় পোলাও, ভাজা, পিঠে ও পায়েসের। দেবীর নিজের হাতে ভোগ রান্নার কাহিনি লোকবিশ্বাস হলেও এই প্রথা আজও মন্দিরের অন্যতম আকর্ষণ।
