নিউজপোল ব্যুরো: মহাষ্টমীর পুজো, পুষ্পাঞ্জলি আর রাজনৈতিক বার্তা—সব মিলিয়ে নিজের ক্লাবের পুজোয় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নতুন করে চর্চায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কাঁথিতে পুজোর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে কমিউনিস্টদের উদ্দেশে কটাক্ষ করেন এবং তাঁদের থেকে সতর্ক থাকার বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা।
নিজের ক্লাবে দেবী বন্দনায় যোগ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, তিনি প্রতি বছর পুজো করেন। নিজের বয়স ৫৬ বছর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। পাঁচ-ছয় বছর বয়স থেকে এই রীতি মেনে চলছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর কথায়, পুজো তাঁর কাছে আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়। নিজেকে ‘হিন্দু বাড়ির ছেলে’ এবং ‘সনাতনী’ বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বক্তব্যের এক পর্যায়ে কমিউনিস্টদের নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, কমিউনিস্টরা পুজো করেন না, পুষ্পাঞ্জলি দেন না, চরণামৃত পান করেন না কিংবা কপালে টিকা লাগান না। এই প্রসঙ্গ তুলে তাঁদের থেকে সাবধানে থাকার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি ‘আরশোলা-ছারপোকা’ বলে কটাক্ষ করে তাঁদের পূর্বপুরুষদের পরিচয় নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই বক্তব্যের ভাষা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু রাজ্যের রাজনীতি নয়, বাংলাদেশ প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, এই গোষ্ঠী গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, বাংলাদেশেও অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে বক্তব্যে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি।মহাষ্টমীর ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা বলা থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শকে আক্রমণ—শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে দুই দিকই সামনে এসেছে।
