Kali Pujo 2026:বেকার যুবকদের শেষ ভরসা! চাকরির মানত পূরণের বিশ্বাসে আজও জাগ্রত সোনামুখীর ‘সার্ভিস কালী’

অন্য রকম পূজা

নিউজপোল ব্যুরো:ভক্তের ডাকে সাড়া দেন মা কালী, এমন বিশ্বাস বহু মানুষের মনেই রয়েছে। সংসারের দুঃখ-কষ্ট হোক কিংবা জীবনের কঠিন বাধা, মায়ের কাছে প্রার্থনা জানিয়ে আশীর্বাদ চান ভক্তরা। আর সেই বিশ্বাসকে ঘিরেই বাঁকুড়ার সোনামুখীতে গড়ে উঠেছে এক বিশেষ পরিচিতি। এখানে দেবী পূজিত হন ‘সার্ভিস কালী’ নামে। ভক্তদের বিশ্বাস, মায়ের কাছে মানত করলে চাকরির মনোবাসনাও পূরণ হয়।

সোনামুখী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে প্রায় ৮০ বছরের পুরনো ইতিহাস। কথিত আছে, একসময় স্থানীয় এক পরিবহণ ব্যবসায়ী বাসের রুট পারমিট সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছিলেন। দেবীর কাছে মানত করার পর তাঁর সেই সমস্যা মিটে যায়। এরপর থেকেই দেবীর মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়ে। চাকরিপ্রার্থীরাও এখানে মানত করতে শুরু করেন।

স্থানীয়দের কথায়, ১৯৪০ সালের আশপাশে কয়েকজন বেকার যুবক এই পুজোর সূচনা করেন। চাকরির আশায় তাঁরা মায়ের কাছে মানত করেছিলেন। পরবর্তীতে চাকরি পাওয়ার পর কৃতজ্ঞতা জানাতে আরও ধুমধাম করে পুজোর আয়োজন করেন। সেই থেকেই পুজোর নাম হয় ‘সার্ভিস কালী’। আবার বাসের লাইসেন্স পাওয়ার মানত পূরণ হওয়ার ঘটনাও এই নামকরণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বলে শোনা যায়।

চতুর্ভুজা কৃষ্ণবর্ণা দেবীর পদতলে শায়িত থাকেন মহাদেব। দু’পাশে রয়েছেন ডাকিনি ও যোগিনী। বর্তমানে শুধু বাঁকুড়া নয়, কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত এবং দিল্লি, মুম্বই থেকেও ভক্তরা আসেন এখানে।

প্রতিদিন নিয়ম মেনে পুজো হলেও দীপান্বিতা অমাবস্যায় বিশেষ আয়োজন করা হয়। কালীপুজো ঘিরে তিন দিন ধরে চলে মেলা, আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ভক্তদের বিশ্বাস, মানত পূরণ হলে তাঁরা ফের ফিরে আসেন দেবীর আশীর্বাদ নিতে।