নিজস্ব প্রতিনিধি হুগলি: সরস্বতী মায়ের কাছে বই জমা নয়! বরং মায়ের জন্যই বিশেষ দিনেও বইমুখী পড়ুয়ারা (Hooghly) । এককালে বাগদেবীর আরাধনা মানেই পড়ুয়াদের কাছে খানিকটা স্বস্তি, কিছুদিনের জন্য বই জমা থাকবে মায়ের কাছে। মায়ের থেকে বই নেওয়া যাবে না তিন দিনের আগে, সুতরাং ওই কদিনে ছুটিতে কাটবে মজায়। কিন্তু বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে অনেকেই বই ঘেঁটে পড়ার অভ্যাস হারিয়ে ফেলছেন জীবন থেকে।
আরও পড়ুন: Excessive Yawning Causes: আপনার বেশি হাই ওঠা স্বাভাবিক নাও হতে পারে! সতর্ক থাকুন!
এখন ‘google’-এ সার্চ অপশন টায় যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে এযুগে। তাই নতুন করে ছাত্র-ছাত্রীদের বইমুখী করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সরস্বতী ঠাকুরের কাছে বই জমা না দিয়ে বেশি করে বই মুখি হোক চাইছে বিদ্যালয়।

তাই সরস্বতী পুজোর বিশেষ দিনটিতেই বিদ্যালয়ে বসেছে বইমেলা (Hooghly)। ছাত্রীরা পরিবেশ সচেতনতার পাঠ নিচ্ছে বইমেলা থেকে। চুঁচুড়া বালিকা বানী মন্দির বিদ্যালয়ে এমনই অভিনব ভাবনা থেকেই বিশেষ উদ্যোগ।পুজোর দিন বইমেলার পাশাপাশি বিদ্যালয় লাইব্রেরিতে পরিবেশ বান্ধব কর্নার উদ্বোধন। বানী মন্দির স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন, তাই শুরু থেকেই এই বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ দেখিয়েছেন তিনি।
নিউজ পোল ফেসবুক পেজের লিংক: https://www.facebook.com/share/p/1BH1X3DtfC/
এদিন সরস্বতী পুজো উপলক্ষে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের লাইব্রেরীতেই এনভায়রনমেন্ট কর্নার উদ্বোধন করেন পরিবেশবিদ বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চুঁচুড়ার বিধায়ক অশেষ মজুমদার,স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি গৌরীকান্ত মুখোপাধ্যায়।

এদিন সেখানে উপস্থিত থেকে প্রধান শিক্ষিকা জানান, ‘বিশ্বজিৎ বাবু আপাতত ২৩ টি পরিবেশ বিষয়ক বই দিয়েছেন।সেগুলো ছাত্রীরা পড়তে পারবে। ভবিষ্যতে আরও বই রাখা হবে কর্নারে’। তিনি আরও বলেন, ‘সরস্বতী পুজোর দিনই করার উদ্দেশ্য হল শুধু স্কুলের ছাত্রীরা না প্রাক্তনীরা শহরের বইপ্রেমীরা পুজোর দিন স্কুলে এসে বইমেলায় যোগ দিতে পারে। আমি পরিবেশ নিয়ে পড়াশোনা করেছি।এটা আমার প্যাশান।পরিবেশ নিয়ে ফটোগ্রাফি করি এটা একটা অন্য দিক।তবে এটা শুধু আমার ভাবনা নয় বর্তমান সময়ে সকলেরই ভাবনা হওয়া উচিত।এই ভাবনাটা সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলেই একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ দেখতে পাবো।

পৃথিবীর গভীরতর অসুখ হল পরিবেশ ধ্বংস করা।সেই অসুখ থেকে মুক্তি পেতে হবে’। বিদ্যালয়ের এমন বিশেষ ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অভিভাবকরাও। এমন বিশেষ দিনে বিশেষ উদ্যোগকে মজা করে দেখছেন ছাত্র-ছাত্রীরা। বই জমা দিয়ে পিছু ছাড়াতে নয়! বইয়ের টানে আরো বেশি করে বিদ্যালয়ে আসছেন তাঁরা।
