Nadia: বাতিল চাকরি, জীবন সংকটে সোমনাথ

জেলা রাজ্য

শ্যামল নন্দী, বারাসাত: জীবনে অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়েছেন তিনি। বিদেশের মাটিতে গিয়ে দেশের জন্য সোনার মেডেল (Gold Medal) এনেছিলেন নদীয়ার (Nadia) সোমনাথ মালো। বিদেশে উড়িয়েছিলেন জাতীয় পতাকা। কিন্তু সাধ দিল না শরীর। সেই সোনালী মুহূর্তের (Golden Movement) পর জীবনের কালো অধ্যায় শুরু হয়েছিল তার জন্য। মারণ রোগ ব্লাড ক্যান্সারে (Blood Cancer) আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: SSC Recruitment Scam : সুপ্রিম কোর্টের রায় বুঝতেই পারছে না কমিশন

২০১৬ সালে চাকরি (Job) পেয়ে কিছুটা আশার আলো দেখতে পান। তিনি নদীয়ার (Nadia) বীরনগর হাই স্কুলে সি গ্রুপের কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে তার সুখের দিন খুব বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রাজ্যের দুর্নীতির কারণে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিল করা হয়। যার মধ্যে সোমনাথ মালোর (Somnath Malo) নামও ছিল। এই সিদ্ধান্ত (Decision) তার জন্য ছিল এক ভয়াবহ ধাক্কা। চাকরি (Job) হারানোর পর তার সামনে নতুন এক সংকট তৈরি হয়—কিভাবে সংসার চলবে, ব্লাড ক্যান্সারের (Blood Cancer) চিকিৎসা চালিয়ে যাবেন কিভাবে?

সোমনাথ মালোর পরিবারে একটি মেয়ে সন্তান এবং স্ত্রী রয়েছেন। তিনি নিজে তিন বছর বয়সে ভুল চিকিৎসায় প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। কিন্তু কখনোই জীবনযুদ্ধে থামেননি। কষ্ট এবং প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানোর। সেই স্বপ্নে সাউথ কোরিয়ায় হাই জাম্প প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সোনাল পদক জিতে ভারতীয় তিরঙ্গা উড়িয়েছিলেন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

অল্প বেতনের স্কুল চাকরি ছিল তার জীবনের একমাত্র সম্বল, কিন্তু সেই চাকরি হারানোর পর তার সংসারে নেমে এসেছে অন্ধকার। মরণব্যাধি ব্লাড ক্যান্সারের (Blood Cancer) চিকিৎসা চালানো সম্ভব হবে কিনা, পরিবারের মুখে খাবার জোগানো সম্ভব হবে কিনা—এসব চিন্তা তার স্ত্রীকে রাতের পর রাত ঘুমাতে দেয় না।

বর্তমানে নদীয়ার (Nadia) সোমনাথ মালো রাজ্য সরকার থেকে সহায়তা প্রার্থনা করছেন। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কাছে। তার দাবি, যদি সোমা পালের চাকরি বহাল থাকে তবে তারও চাকরি (Job) পুনর্বহাল হোক যেন তিনি তার পরিবারের পেট চালাতে এবং নিজের চিকিৎসা করতে সক্ষম হন। তবে, রাজ্য সরকারের সহায়তাই হয়তো তার একমাত্র আশার আলো।