Nandan : নন্দনের চার দশক: উদ্বোধনী দিনে সত্যজিৎ-মৃণাল, প্রিমিয়ার ঋত্বিকের কোন ছবি?

কলকাতা পেজ 3

নিউজ পোল ব্যুরো: কলকাতার(Kolkata) বুকে এক বিশেষ আবেগের নাম ‘নন্দন’(Nandan)। ১৯৮৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর উদ্যোগে, এবং সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray)স্বপ্ন বাস্তব রূপ পায় এই সিনেমাহলের জন্মের মধ্য দিয়ে। নামকরণ থেকে শুরু করে প্রবেশদ্বারে থাকা ক্যালিগ্রাফি সবই সত্যজিৎ রায়ের(Satyajit Ray) শিল্পস্পর্শে সাজানো। উদ্বোধনের দিন ছিলেন সত্যজিৎ রায়, জ্যোতি বসু ও মৃণাল সেন।

প্রথম ছবি হিসেবে নন্দন ১-এর পর্দায় ভেসে ওঠে ঋত্বিক ঘটকের কালজয়ী সৃষ্টি যুক্তি তক্কো আর গপ্পো।নন্দনের(Nandan) জন্ম ছিল চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ ও দর্শক-চেতনার প্রসারের উদ্দেশ্যে। এখানেই মূলধারার বাণিজ্যিক ছবির প্রবেশাধিকার ছিল সীমিত, কারণ এই জায়গাটিকে দেখা হত এক সাংস্কৃতিক মঞ্চ হিসেবে। পরে নন্দন ২, ৩, এমনকি আলোচনা সভার জন্য নন্দন ৪ খোলা হয়। একসময় নন্দন হয়ে ওঠে বাঙালির বৌদ্ধিক চর্চার কেন্দ্র, সিনেমাপ্রেমীদের আড্ডাখানা, প্রেমিক-প্রেমিকার নির্ভরযোগ্য ‘ডেটিং স্পট’ এবং অগণিত স্মৃতির ভাঁড়ার।

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (Kolkata International Film Festival) প্রাণকেন্দ্র হিসেবেও নন্দনের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। বিদেশি তারকারা যখন উৎসবে আসেন, তাদের পাশে ভেসে ওঠে উত্তম-সুচিত্রার মুখও, যেন দুই জগতের মিলনস্থল হয়ে ওঠে নন্দন প্রাঙ্গণ। তবে সময়ের সঙ্গে বদল এসেছে। বর্তমান সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ভাঙে বিভাজনের দেয়াল।

নন্দনে প্রবেশ করে সব ধরণের চলচ্চিত্র অঞ্চলিক, জাতীয়, আন্তর্জাতিক কিংবা বাণিজ্যিক। ফলে আজ এটি কেবল বুদ্ধিজীবীদের ক্ষেত্র নয়, সাধারণ দর্শকদের কাছেও সমান জনপ্রিয়।চল্লিশ বছর পরও নন্দনের(Nandan)আবেদন অমলিন। সস্তায় ভাল ছবি দেখার সুযোগ থেকে শুরু করে শহরের সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক সবকিছুতেই নন্দন(Nandan)আজও অদ্বিতীয়। ১৮ থেকে ৮০ সব প্রজন্মের কাছে নন্দন(Nandan) মানেই এক অনন্য অনুভব। ৪০ বছর পেরিয়েও নন্দন(Nandan) আজও চিরহরিৎ, চিরন্তন।

আরও পড়ুন: Salim Khan : “গোমাংস কোনওদিন খাননি”সেলিম খান, জানালেন বিশেষ কারণ