নিউজ পোল ব্যুরো: লক্ষ্মীপুজো মানেই দেবলীনা কুমারের(Devlina Kumar)ব্যস্ততা একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়। অভিনেত্রীকে এক সঙ্গে বাপের বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি এবং নিজের নাচের স্কুলের পুজোর সব আয়োজন সামলাতে হয়। উত্তম কুমারের (Uttam Kumar)নাতবৌ হিসেবে এবং দেবাশীষ কুমারের একমাত্র কন্যা হিসেবে , দু’পাশেই পূজোর আনন্দ-উৎসবের দায়িত্ব দেবলীনার কাঁধে। তবে প্রতিবারই তিনি কোনো দিকেই খামতি রাখেন না। পরম যত্নে তিনটি পুজোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন তিনি।
আরও পড়ুন: Lakshmi Puja: একুশ শতকে নতুন রূপে লক্ষ্মী
এই বছরও রবিবার রাতেই স্কুলের লক্ষ্মীমেয়েদের সঙ্গে পটুয়া পাড়া থেকে প্রতিমা এনে পায়েস রাঁধা হয়েছে। এক ফাঁকে ভবানীপুরের চাটুজ্জ্যে বাড়িতে মা-কে বরণ করে আসেন দেবলীনা। উত্তম কুমারের পরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী চট্টোপাধ্যায় বাড়ির লক্ষ্মীপুজো(Laxmi Puja 2025) আয়োজনের দায়িত্ব এখন নাতি গৌরব চট্টোপাধ্যায় এবং বউমা দেবলীনা কুমার(Devlina Kumar)। এই বাড়ির লক্ষ্মীপ্রতিমার মুখ বিশেষভাবে গৌরীদেবীর আদলে তৈরি। নাতি গৌরব এখনও রীতি মেনে নির্জলা উপোস করে পুজো শুরু করেন, আর দেবলীনা লাল পাড় সাদা শাড়ি ও সোনার গয়নায় মা লক্ষ্মীকে সাজান।

ঐতিহ্য মেনে ভোরে গঙ্গায় ডুব দিয়ে ঘট ভরে আনা হয়। ভোগ হিসেবে থাকে পোলাও, লুচি, ছোলার ডাল, পাঁচরকম ভাজা, ফুলকপি, বাঁধাকপি এবং পায়েস। বাড়িতেই বানানো হয় পান্তুয়া, গজা, যা পাড়াপড়শিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। একসময় স্বয়ং উত্তমকুমার অতিথিদের জন্য ভোগ পরিবেশন করতেন। এখন সেই দায়িত্ব পালন করেন গৌরব, দেবলীনা এবং নতুন প্রজন্ম।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
গৌরীরূপী লক্ষ্মীর এই প্রতিমার পেছনে আছে একটি গল্প। ‘যদুভট্ট’ ছবির শুটিং-এর সময় শিল্পী নিরঞ্জন পাল গৌরীর মুখের আদলে প্রতিমা গড়েন। মহানায়ক চলে যাওয়ার পরও চট্টোপাধ্যায় পরিবারের নতুন প্রজন্ম এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। আলপনা থেকে শুরু করে প্রতিমা সাজানো, ভোগ প্রস্তুতি সবকিছুতেই এখনো ভক্তি ও নিষ্ঠার ঘাটতি নেই। দেবলীনা কুমারের (Devlina Kumar)পরিশ্রম আর ভালোবাসার কারণে, কলকাতার এই পরিবারের লক্ষ্মীপুজো এখনও একই রকম উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।
