নিউজ পোল ব্যুরো: বাঙালি পরিবারে ফুটফুটে কন্যাসন্তান জন্মালেই বড়রা বলেন, ‘‘ঘরে লক্ষ্মী (Lakshmi) এসেছে।’’ দেবী লক্ষ্মী (Goddess of Wealth and Prosperity) বৈদিক যুগে শক্তির প্রতীক হলেও পরবর্তীতে তাঁকে স্থিতির রক্ষক নারায়ণের (Narayana) সহধর্মিণী হিসেবে দেখা হয়েছে। এখান থেকেই তৈরি হয় ‘‘লক্ষ্মীমন্ত মেয়ে’’ (Lokkhi Girl)–র ধারণা। সমাজ মেয়েদের উপর সংসার সামলানোর দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়েছে সেই প্রাচীন কাল থেকেই। কিন্তু একুশ শতকেও কি এই ধারণা বদলেছে?

আসলে লক্ষ্মীর আর এক নাম ‘‘চঞ্চলা’’ (Chanchala), অর্থাৎ অস্থির—আজ আছেন, কাল নেই। ভাগ্যও তেমনই। কিন্তু ব্রতকথা বা সামাজিক ধারণায় কেবল অচলা, স্থির রূপকেই কামনা করা হয়। ফলে মেয়েদের শেখানো হয়, ‘‘লক্ষ্মীমন্ত হও, শান্ত হও, স্বর নিয়ন্ত্রিত রাখো।’’ (Patriarchal Society) এই নিয়ন্ত্রণমূলক পাঠ মেয়েদের অস্তিত্বকে ছায়ার মতো করে তোলে।
আরও পড়ুন: Lakshmi Puja: ফোনে ক্লিক না ঠেলাঠেলির বাজার, কোথায় আসল পুজোর আনন্দ?
অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের (Rituparna Sengupta) মতে, ‘‘লক্ষ্মী শব্দে ইতিবাচকতা আছে ঠিকই, তবে রান্না, গৃহস্থালি, কিংবা বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে কাউকে লক্ষ্মীমন্ত বলা আমি মানি না।’’ তাঁর মতে, যে নারী নিজে উপার্জন করেন, অন্যকেও পথ দেখান, সঞ্চয় (Savings) করতে জানেন, তিনিই আসল ‘‘লক্ষ্মী’’।

রূপান্তরিত নারী ও সমাজকর্মী অনুপ্রভা দাস মজুমদার বলেন, ‘‘প্রত্যেক মানুষই নিজের স্বকীয়তা (Individuality) ও প্রতিভায় পূর্ণ। লক্ষ্মীমন্ত শব্দটি চিরাচরিতভাবে অবাস্তব। আসল সৌন্দর্য জীবন্ত এবং ভেতর থেকে বিকশিত।’’
অভিনেতা ঋদ্ধি সেনের (Riddhi Sen) মতে, ‘‘লক্ষ্মীমন্ত’’ ধারণা পুরুষতান্ত্রিক সমাজই সুবিধার জন্য বানিয়েছে। বাইরে বদলের কথা বলা হলেও অন্তরে এখনও সেই পুরনো মানসিকতা রয়ে গেছে। তবে জেন জ়ি প্রজন্ম (Gen Z) প্রতিবাদ করছে, যদিও ফল কতটা হবে তা ভবিষ্যৎ বলবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
অভিনেত্রী নুসরত জাহান (Nusrat Jahan) বিশ্বাস করেন, আজকের ‘‘লক্ষ্মীমন্ত’’ নারী মানে ধৈর্যশীল অথচ দৃঢ়চেতা (Strong Women)। তাঁর মতে, নরম স্বভাব ও শক্ত মানসিকতা—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রাখাই আসল চ্যালেঞ্জ। পোশাকশিল্পী পরমা ঘোষ বলেন, ‘‘আর্থিক স্বাধীনতা (Financial Independence) থাকলেই মেয়ে লক্ষ্মীমন্ত।’’ সুরকার দেবজ্যোতি মিশ্রর (Debojyoti Mishra) মতে, প্রতিবাদী নারী বা ভোরবেলার বাজারে পণ্য বিক্রি করা মহিলা—উভয়ের মধ্যেই লক্ষ্মী বিরাজ করেন।
অধ্যাপক অভীক মজুমদারের (Abhik Majumdar) মতে, ‘‘লক্ষ্মী’’ শব্দ শুধু মেয়েদের জন্য নয়। বাংলায় ‘‘লক্ষ্মী ছেলে’’ (Good Boy)–ও ব্যবহৃত হয়। ‘‘শ্রী’’ (Shree) শব্দে যেমন নারী–পুরুষ নির্বিশেষে সৌন্দর্য ধরা পড়ে, তেমনই বাংলার প্রতিটি প্রাণ ও প্রকৃতিতে আজও ‘‘লক্ষ্মী’’ বিরাজমান।
