নিউজ পোল ব্যুরো: শুক্রবার এক ঐতিহাসিক নির্দেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court of India) এবার স্কুল (Schools), রেলস্টেশন (Railway Stations), হাসপাতাল (Hospitals) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিসর থেকে পথকুকুর (Stray Dogs) সরাতেই হবে। বিচারপতি বিক্রম নাথ, সন্দীপ মেহতা ও এনভি আঞ্জারিয়ার তিন সদস্যের বেঞ্চ জানায়, নির্বীজকরণের (Sterilization) পর কুকুরদের আর আগের জায়গায় ফেরানো যাবে না। তাদের রাখা হবে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র (Shelter Homes)-এ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কোন কোন এলাকায় পথকুকুর থাকবে না, তা নির্ধারণ করবে স্থানীয় প্রশাসন (Local Administration)। এই কাজ শেষ করতে হবে আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে। একই সঙ্গে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, খেলার মাঠ, সরকারি দফতর ইত্যাদি জায়গায় যাতে কোনও অবস্থাতেই কুকুর ঢুকতে না পারে, তার জন্য বেড়া (Fencing) দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলাশাসক (District Magistrate) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আট সপ্তাহের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে।
আরও পড়ুন : Weather Update : উইকেন্ডে দক্ষিণবঙ্গে পারদ পতন শুরু, শীতের আমেজ বাড়বে আগামী পাঁচ দিনে
পাশাপাশি, ওই স্থানগুলোয় নিয়মিত নজরদারি চালাতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। নির্দেশনামা পড়ে শোনানোর সময় বিচারপতি মেহতা স্পষ্ট বলেন, “নির্বীজকরণের পর পথকুকুরদের আগের জায়গায় ফেরানো যাবে না। তা হলে আদালতের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।” আদালত জানিয়েছে, এই বিষয়ে বিস্তারিত লিখিত নির্দেশনামা শুক্রবারই প্রকাশ করা হবে। একইসঙ্গে আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি (National Highway Authority of India) ও অন্যান্য রোড অথরিটি (Road Authorities)-কে রাস্তা থেকে গরু (Cattle) ও অন্য প্রাণীদের সরাতে হবে। ওই পশুগুলি যাতে নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রে থাকে, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
উল্লেখ্য, গত ২২ অগস্ট দিল্লির পথকুকুর সংক্রান্ত মামলায় দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে যুক্ত করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। তখন বলা হয়েছিল, রাস্তা থেকে কুকুর তুলে নির্দিষ্ট স্থানে নির্বীজকরণ (Dog Sterilization) ও প্রতিষেধক (Vaccination) দেওয়ার পর তাদের ফের ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ, তেলঙ্গানা ও দিল্লি ছাড়া অন্য রাজ্যগুলির কেউই আদালতে সেই সংক্রান্ত হলফনামা (Affidavit) জমা দেয়নি। এর পর ২৭ অক্টোবর শুনানিতে শীর্ষ আদালত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং সব রাজ্যের মুখ্যসচিবদের তলব করে। ৩ নভেম্বর তারা আদালতে হাজিরা দেন। দিল্লিতে সম্প্রতি একাধিক ডগ বাইট কেসেস বাড়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত এই মামলাটি শুনে। প্রথমে দিল্লি থেকে সমস্ত পথকুকুর সরানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও, পরে তা বদলে নির্বীজকরণ ও আশ্রয়কেন্দ্র ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হয়।
