নিউজ পোল ব্যুরো: থাইরয়েড (thyroid) সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এখন ঘরে ঘরে বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। সুগার ও ব্লাড প্রেসারের মতোই থাইরয়েডের (thyroid) সমস্যা আজ অত্যন্ত সাধারণ হয়ে উঠেছে। পরিবারের আত্মীয়-পরিজন কিংবা আশপাশের মানুষদের মধ্যে প্রায়ই কেউ না কেউ থাইরয়েডের (thyroid) সমস্যায় ভোগেন। প্রচলিত উপসর্গ যেমন ওজন বেড়ে যাওয়া, চুল ঝরে পড়া বা ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলেই অনেক সময় সন্দেহ জাগে থাইরয়েড (thyroid) নিয়ে। এই সব উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। তবে শুধু থাইরয়েড (thyroid) হরমোনের গোলযোগেই সমস্যা শেষ নয়, দীর্ঘদিন ধরে এই রোগে ভুগলে থাইরয়েড (thyroid) গ্রন্থিতে টিউমার (thyroid nodule or tumour) হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়। আর সেখান থেকেই কখনও কখনও তৈরি হয় থাইরয়েড ক্যানসার (thyroid cancer)।
আরও পড়ুন : OTP Fraud : SIR ফর্মের নামে OTP জালিয়াতি! নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ আগেভাগে সতর্ক করল জনগণকে
সমস্যা হল, থাইরয়েড ক্যানসারের (cancer symptoms) প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণত খুব স্পষ্ট হয় না। তাই রোগ ধরা পড়তেও দেরি হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, গলার সামনের অংশে কণ্ঠনালীর নিচে একটি ছোট মাংসপিণ্ড বা গুটি লক্ষ্য করা গেলে সেটি অবহেলা করা ঠিক নয়। এই গুটি সাধারণত ব্যথাহীন হয় বলে অনেকেই প্রথম দিকে গুরুত্ব দেন না। আবার কারও কারও কণ্ঠস্বর হঠাৎ কর্কশ হয়ে যেতে পারে বা স্বর পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে থেকে যেতে পারে। এর কারণ হতে পারে টিউমারের চাপ ভোকাল কর্ডে পড়া। তাই গলা ধরে থাকা বা স্বর বদলে যাওয়া যেন অবহেলায় না পড়ে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এ ছাড়াও অনেক রোগীর খাবার গিলতে সমস্যা হতে পারে, কারণ গ্রন্থির ভিতরের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি খাবারের নালীতে চাপ সৃষ্টি করে। এমনকি শ্বাস নিতে অসুবিধাও দেখা দিতে পারে, কারণ টিউমার কণ্ঠনালীর চারপাশে চাপ বাড়ায়। গলার ভেতরে বা কণ্ঠনালীর পাশে টান ধরার মতো ব্যথা তৈরি হতে পারে, যা কখনও কখনও কান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি, ঘাড়ের পাশে লিম্ফ নোড (lymph nodes) ফুলে ওঠাও থাইরয়েড ক্যানসারের (thyroid cancer) একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে। সব মিলিয়ে বলতে গেলে, থাইরয়েড (thyroid) নিয়ে কোনও অস্বাভাবিকতা টের পেলেই দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ হয় এবং সুস্থতার সম্ভাবনাও বহু গুণ বেড়ে যায়।
